বুধবার ১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

সংসদে মন্ত্রীর বিবৃতি,ব্যাখ্যা মানতে রাজি নন এমপিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সংসদে মন্ত্রীর বিবৃতি,ব্যাখ্যা মানতে রাজি নন এমপিরা

দেশে জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে কার্যপ্রণালি বিধিতে বিবৃতি দিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই দাবি করে তিনি বলেছেন, তেলের জন্য পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও এটাই প্রকৃত চিত্র নয়। দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই বরং গত বছরের তুলনায় সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বছরের এই সময়ে যে পরিমাণে জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছিল, এ বছর তার চেয়ে বেশি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেছে। তবে মন্ত্রীর এই ব্যাখ্যা মানতে রাজি নন সংসদ সদস্যরা। কেউ কেউ বলেছেন, একাধিক পাম্পে ঘুরেও তারা তেল পাননি।

গতকাল সোমবার সংসদের বৈঠকে নিজ মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে কৈফিয়ত দিতে কার্যপ্রণালির ৩০০ বিধিতে এই বিবৃতি দেন মন্ত্রী। এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে তেলের মজুতদারদের দায়ী করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী। এ সময় তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে মজুতদারদের কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে তেল উদ্ধার হওয়ার ফিরিস্তি তুলে ধরেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি, জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাপন, উৎপাদন ব্যবস্থা, কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য সামগ্রিকভাবে জাতীয় অগ্রগতির সমৃদ্ধির প্রশ্ন জড়িত। বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে দেশের গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহের অগ্রিম প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনার বিষয়টি দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করা জরুরি। বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে যাতে কোনো মহল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য এই বিবৃতি দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপের মুখে ফেলেছে। কিন্তু তাঁর সরকার সঠিক এবং সময়োপযোগী প্রস্তুতি নিয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ চলছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দিন জ্বালানিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডিজেলের মজুত ছিল দুই লাখ ৬০ হাজার টন। ৩০ মার্চ ডিজেলের মজুত আছে দুই লাখ ১৮ হাজার টন। এই ৪১ দিনে ডিজেল বিক্রি হয়েছে চার লাখ ৮২ হাজার টন।

মন্ত্রী বলেন, মজুত বৃদ্ধি প্রমাণ করে সরকার আগাম প্রস্তুতি, ধারাবাহিক আমদানি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থাকে দৃঢ়ভাবে অটুট রেখেছে। সরকার ২০২৫ সালের মার্চের চাহিদাকে ভিত্তি ধরে চলতি মাসে জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে। সরকার সম্ভাব্য চাহিদার চেয়েও বেশি প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে, যাতে বাজারে কোনো ধরনের সংকট বা কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি না হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রকৃত চাহিদা সেই অনুপাতে বাড়েনি। তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত ক্রয়ের প্রবণতা বা আতঙ্কের কারণে অনর্থক জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করার কারণ রয়েছে।

ইকবাল হাসান বলেন, গত বছরের মার্চে ডিজেলের দৈনিক চাহিদা ছিল ১২,০০০ টন এবং অকটেন ও পেট্রোলের চাহিদা ছিল ১২০০ ও ১৪০০ টন। অথচ চলতি মাসের ১ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত অকটেন বিক্রির পরিমাণ হয়েছে ২৮ হাজার ৯৩৯ টন।

আটক ও উদ্ধারের তথ্যও সংসদে তুলে ধরেন মন্ত্রী। ইতোমধ্যে সরকার ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এ অভিযানগুলোর মাধ্যমে ১ হাজার ৫৩টি মামলা দায়ের, ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১৬ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অভিযানে ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ টন জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, এপ্রিলে ৫০ হাজার টন অকটেন আমদানির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশীয় উৎস থেকে আরও ৩০ হাজার টন অকটেন সরবরাহ হবে, যা দেশের দুই মাসের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট। একইভাবে ডিজেল ও অকটেনে মার্চ-জুন প্রান্তিকে সরকারকে প্রায় ১৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা এবং এলএনজি আমদানিতে ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকা ভর্তুকি বহন করতে হবে।

দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে ইকবাল হাসান বলেন, বৈদেশিক সংকটের মধ্যেও সরকারি জ্বালানির তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়নি। পৃথিবীর অনেক দেশে জ্বালানির দাম বারবার সমন্বয় করতে হয়েছে। এমনকি প্রতিবেশী অনেক দেশেও ২৫ শতাংশের বেশি মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজেলের বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অথচ প্রকৃত ব্যয় ১৯৮ টাকা। অকটেনের বিক্রয়মূল্য ১২০ টাকা, প্রকৃত ব্যয় ১৫০.৭২ টাকা। সরকারের লক্ষ্য মানুষকে স্বস্তি প্রদান এবং সরবরাহে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি না হওয়া।

তেল পাননি এমপি
গতকাল সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম সংসদকে জানান, কয়েকটি পেট্রোল পাম্প ঘুরে নিজের গাড়ির জন্য তেল পাননি তিনি। কুড়িগ্রাম-১ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন।

তাঁর এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী এলাকার পেট্রোল পাম্পগুলোতেও পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। পাম্পে তেল না থাকলেও বাইরে বোতলে করে ঠিকই বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। মোটরসাইকেলের চালকরা বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে তেল কিনছেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্যান্য সংসদ সদস্যও জ্বালানি সংকট ও তা নিয়ে জনগণের দুর্ভোগের বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান বিন কাশেমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, জ্বালানি যেন আমরা একাধিক উৎস থেকে সরবরাহ করতে পারি, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন।

ইরান-রাশিয়াসহ বিকল্প উৎসে নজর
গতকাল সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, রাশিয়া থেকে দুই মাসের জন্য ছয় লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে আমেরিকার কাছেও অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিছু দেশে আমেরিকার স্যাংশন থাকায় অনুমতির এই প্রক্রিয়ায় যেতে হয়েছে।

মুখপাত্র বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ভারত থেকে ২২ হাজার টন ডিজেল পেয়েছি। তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকেও তেল আনা হচ্ছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তেল আমদানির চেষ্টা চলছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল আমদানির জন্যও আমরা ইরানের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের জাহাজ হরমুজ দিয়ে আসতে সমস্যা নেই। কিন্তু সব জাহাজ বাংলাদেশের পতাকাবাহী হয় না। এখানেই সমস্যা তৈরি হতে পারে।

ফুয়েল পাস চালুর পরিকল্পনা
সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, চাহিদা নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি উদ্যোগ হিসেবে ফুয়েল পাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কিউআর কোডভিত্তিক এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ, অকটেনভিত্তিক এই খাতে চাহিদা তুলনামূলক বেশি এবং সাম্প্রতিক সময়ে প্যানিক বায়িংয়ের প্রবণতাও বেশি দেখা গেছে।

তিনি জানান, এ ব্যবস্থায় প্রতিটি নিবন্ধিত যানবাহনের জন্য একটি কিউআর কোড ইস্যু করা হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ওই কোড ব্যবহার করে নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি নেওয়া যাবে। একবার জ্বালানি নেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের আগে আবার নেওয়া যাবে না– এভাবে একই যানবাহনের একাধিকবার জ্বালানি নেওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ফুয়েল পাস বাস্তবায়নের জন্য একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর তথ্য, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, জ্বালানি গ্রহণের সময় ও পরিমাণ– সবকিছু রেকর্ড রাখা হবে। ফুয়েল পাস কোথা থেকে ইস্যু করা হবে– এ প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, এটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সরাসরি না দিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে তৈরি করে ফিলিং স্টেশনগুলোর মাধ্যমে বিতরণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

দেশের কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা-উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকার কার্যক্রম চালাচ্ছে। যুগ্ম সচিব আরও বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তালিকা অনুযায়ী ডিজেল বিতরণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসকরা তেলের সঠিক বিতরণ ও রেকর্ড রাখার জন্য ফিলিং স্টেশনে সরকারি ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ করছেন।

দেশজুড়ে জরিমানা ও আটক
রাজধানীর গুলশান, খিলক্ষেত ও ভাটারা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মজুত করে রাখা প্রায় ১ হাজার ২০০ লিটার ডিজেল ও পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান বিভাগের পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। গতকাল দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চালানো এ অভিযানে বিভিন্ন স্থানে গোপনে মজুত করে রাখা জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের সিডিএ আবাসিক গেট-সংলগ্ন এলাকায় গতকাল একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের তেলের ডিপোতে অবৈধভাবে মজুত রাখা ২৫ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে নগরের একটি ফিলিং স্টেশনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বন্ধ এলেঙ্গা ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে ১৬ হাজার লিটার তেল পাওয়া গেছে। পাম্প মালিককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। চাঁদপুরে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে গতকাল অভিযান চালিয়ে ৫১০ লিটার জ্বালানি তেল মজুত রাখা ও অবৈধভাবে বিক্রির দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ৫১০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করে দেওয়া হয়। নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জব্দকৃত এক হাজার ৯০ লিটার পেট্রোল বিক্রির লক্ষাধিক টাকা কোষাগারে জমা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত দোকানির কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়ছে।

ফরিদপুরের মধুখালীতে গতকাল খুচরা বাজারে অতিরিক্ত দামে অকটেন বিক্রি করার অপরাধে এক খুচরা তেল ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রাজবাড়ীর পাংশায় পেট্রোল ও অকটেন মজুত করে খোলা বাজারে বিক্রি করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রংপুরে ৮৫ জনকে এবং গাইবান্ধার সাত উপজেলার ২২টি পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের গাবা এলাকা থেকে রোববার রাতে সাত হাজার লিটার পেট্রোলসহ একটি তেলবাহী লরি আটক করা হয়েছে। নাটোরের সিংড়ায় অবৈধভাবে বাসাবাড়ির নিচতলায় ১২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল মজুতের অপরাধে আলতাব হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় রোববার রাতে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করা ১১ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ও ডিজেল জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জ্বালানি তেল মজুত করে উচ্চমূল্যে বিক্রির অভিযোগে আশিক স্টোর নামে এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাবনার চাটমোহরে অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে দুই হাজার ৪০০ লিটার পেট্রোল-ডিজেল জব্দ করে খোলা বাজারে বিক্রি করেছে পুলিশ। এ সময় দুজনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ঢাকার দোহার উপজেলায় অবৈধভাবে তেল মজুত রাখা ও বিক্রির দায়ে মো. করিম মণ্ডল নামে এক ব্যবসায়ীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাবনার বেড়া পৌর এলাকার লিনজা পেট্রোল পাম্পে এ অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে আবদুল আলী ফিলিং স্টেশন থেকে ৩৪ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। লাইসেন্সবিহীনভাবে কেরোসিন মজুত ও জ্বালানি তেল বিক্রির দায়ে সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের চামড়াপট্টি এলাকায় পৃথক অভিযানে দুই ডিলারকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিকে জেলার উল্লাপাড়া পৌর বাস টার্মিনালের পাশে উল্লাপাড়া পেট্রোল পাম্পে তেলের জন্য এক দল যুবক হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় পাম্প কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রশাসন ও মডেল থানাকে বিষয়টি অবহিত করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারী তিন ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করে মুচলেকা নিয়ে রাতে নিজ নিজ পরিবারের লোকজনের কাছে তুলে দেন। এদিকে চুয়াডাঙ্গা জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন স্বাভাবিক রাখতে তেল কেনার ক্ষেত্রে ‘ফুয়েল কার্ড’ বাধ্যতামূলক করেছে জেলা প্রশাসন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়