বুধবার ১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

হামের প্রাদুর্ভাব:অভিভাবকরা কী করবেন,সরকার কী বলছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

হামের প্রাদুর্ভাব:অভিভাবকরা কী করবেন,সরকার কী বলছে?

সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব এবং আশঙ্কাজনক হারে শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিশু অধিকারকর্মী আব্দুল্লা আল মামুন। এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বাদানুবাদ ও টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই শিশু অধিকারকর্মী কিছু পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, হামের প্রকৃত পরিস্থিতি এখন কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, তা অভিভাবকরা স্পষ্টভাবে জানতে পারছেন না। সরকারের উচিত বর্তমান আক্রান্তের সংখ্যা এবং গত ৪-৫ বছরের টিকাদান কর্মসূচির হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করা।

তিনি বলেন, “যেহেতু স্কুলে শিশুদের সমাগম সবচেয়ে বেশি, তাই সেখানে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকিও বেশি। হালকা জ্বর বা প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে শিশুকে স্কুলে না পাঠিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষের উচিত নিয়মিত শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা এবং অসুস্থ শিশুকে তাৎক্ষণিক ছুটিতে পাঠানো।” পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে আক্রান্ত এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখার কথা ভাবা যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

আল মামুন আরও বলেন, “হাম নিশ্চিত হলে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে। কোভিডের সময়ের মতো কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। অভিভাবকদের এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা পরিচয় দিতে হবে।”

দীর্ঘদিনের সফল ইপিআই কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা পরিষ্কার করার ওপর জোর দেন এই শিশু অধিকারকর্মী। অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা শিশুদের টিকাদান কার্ডটি পুনরায় পরীক্ষা করুন। এমএমআর টিকার দুটি ডোজ সম্পন্ন হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করুন। সরকারি বা বেসরকারি—যে উদ্যোগেই হোক, কোনো শিশু যেন টিকার আওতার বাইরে না থাকে।”

রাষ্ট্র ও সরকারকে এই সংকটকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “বর্তমানে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কারসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এসব আলোচনার ভিড়ে যেন শিশুদের প্রাণহানির বিষয়টি চাপা না পড়ে।” টিকার সত্যতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের চেয়ে কার্যকর সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলেও মনে করেন তিনি।

আমাদের দেশে শিশুদের জন্য এনআইসিইউ সাপোর্টসহ সামগ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থা এখনও অপ্রতুল জানিয়ে তিনি বলেন, “বৈশ্বিক যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধির এই কঠিন সময়ে যদি বড় ধরনের মহামারি ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা সামলানো কঠিন হবে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের জন্য বিশেষ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে এখনই এগিয়ে আসতে হবে।”

এই শিশু অধিকারকর্মীর মতে, “হামের প্রাদুর্ভাব একক প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে এই সংকট থেকে শিশুদের রক্ষা করতে। অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়