
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা অবরোধ তুলবে না যুক্তরাষ্ট্র।
যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিতীয় পর্বের শান্তি আলোচনায় মিলিত হওয়ার কথা থাকলেও তেহরান বলছে, অবরোধ তুলে নেওয়া না হলে আলোচনায় বসবে না তারা।
ফলে দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই দুপক্ষ ইসলামাবাদে আলোচনায় বসবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বুধবার সকালে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এক সপ্তাহ আগে ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ শুরু করে মার্কিন নৌবাহিনী। মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো হরমজু প্রণালির অদূরে ওমান উপসাগর ও উত্তর আরব সাগরে অবস্থান নিয়ে আছে। রোববার এই জলসীমায় তারা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রথমবারের মতো একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজে গোলাবর্ষণ করার পর সেটি জব্দ করেছে। জাহাজটি চীন থেকে পণ্য নিয়ে ইরানের বন্দর আব্বাসে যাচ্ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দর থেকে ছেড়ে আসা অথবা ইরানের বন্দরমুখি ২৭টি জাহাজকে গন্তব্যে যেতে বাধা দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “এই অবরোধ ইরানকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে।” এই যুদ্ধে তার দেশ ‘অনেক জয় পাচ্ছে’ বলে দাবি করেছেন তিনি।
বিবিসি জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের শান্তি আলোচনা হতে যাচ্ছে, এমন ধরে নিয়ে পাকিস্তান পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে, রাজধানী ইসলামাবাদ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতা ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এখনও ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হননি। আর ইরান বলছে, ইসলামাবাদ বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তারা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
জাহাজ জব্দের ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছে ইরান আর যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ দুই পক্ষের মধ্যে বিরাজমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্যে দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় দুই মাস ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে ইরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং তেল ও গ্যাসের মূল্য মাঝে মাঝেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
ইরান জানিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখবে তারা।
ইসলামাবাদে প্রতিনিধি দল পাঠাবে কি না, তা নিশ্চিত করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান; তারপরও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের শান্তি আলোচনা হবে বলে ইঙ্গিত আছে।
সোমবার বিকালে কয়েকটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদল ‘শিগগিরই’ ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে, কিন্তু কখন দেবে তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি। মার্কিন কর্মকর্তারা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, তারা মঙ্গলবার রওনা দেবে।
সোমবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘তখনো পর্যন্ত’ শান্তি আলোচনায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের ‘কোনো পরিকল্পনা’ ছিল না।
