শনিবার ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

তেজগাঁও শিল্প এলাকা: হাজারো অটোরিকশার অবৈধ চার্জের কারবার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

তেজগাঁও শিল্প এলাকা: হাজারো অটোরিকশার অবৈধ চার্জের কারবার

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অটোরিকশা চার্জিংয়ের অসংখ্য পয়েন্ট। সড়কের পাশে কিংবা গলিতে বসানো এসব চার্জিং স্পটে প্রতিদিন ভিড় করে শত শত অটোরিকশা। এলাকায় নির্দিষ্টসংখ্যক বৈধ চার্জিং পয়েন্ট থাকলেও তার আড়ালে বহু জায়গায় নির্বিঘ্নে চলছে অবৈধ চার্জ দেওয়ার কাজ। ব্যাপক হারে বিদ্যুৎ চুরির মাধ্যমে অনুমোদনহীন এ পয়েন্টগুলো চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলা এবং অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অবৈধভাবে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার একটি চক্র গড়ে উঠেছে। তাদের বসানো পয়েন্টে প্রতিদিন অবাধে অবৈধভাবে চার্জ দিচ্ছে হাজারো অটোরিকশা।

২১ এপ্রিল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের সাতরাস্তা মোড়ের আকিজ পাম্পসংলগ্ন এলাকায়, দক্ষিণ বেগুনবাড়ির আজমেরি হোটেলের সামনে, বেগুনবাড়ি পোস্ট অফিসের আশপাশ, আজিজ লতিফ হলের সামনে, বিটাক থেকে সিদ্দিক মাস্টার মোড় পর্যন্ত এবং উত্তর বেগুনবাড়ির নাসা পদ্মা গার্মেন্টস থেকে রানার ১০ তলা ভবন পর্যন্ত এবং বিএসটিআই-সংলগ্ন সড়কের দুই পাশের ফুটপাত এলাকায় শত শত অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। রাস্তার দুই ধারে যানগুলো রেখে গ্যারেজ মালিক ও চালকেরা তাতে চার্জ দিচ্ছেন। জানা গেল, এসব অটোরিকশার অধিকাংশই গ্যারেজের মালিকদের।

মঙ্গলবার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের প্রগতি মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুতের খুঁটির তারে হুক লাগিয়ে সরাসরি লাইন টেনে নিচে রাখা মাল্টিপ্লাগে নেওয়া হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি অটোরিকশায় চার্জ দেওয়া হচ্ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বরত এক কর্মচারী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি ১২টি রিকশায় চার্জ দিই। কয়েকটি ব্যক্তিমালিকানার। আমরা অস্থায়ীভাবে এখানে বসেছি। পাশের ভবনের লোকজন তুলে দিলেই চলে যেতে হবে। তাই মিটার নেওয়া হয় না। মিটার সহজে পাওয়াও যায় না।’

ওই কর্মচারীর দাবি, এখানে রিকশায় চার্জ দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যারা মিটার নেয়, তারাও নামেমাত্র নেয়। সবাই ‘গাছ’ (বিদ্যুতের খুঁটি) থেকে সরাসরি লাইন টেনেই চার্জ দেয়।

মোড়টির আরেক পাশে দেখা যায়, সেখানে চার্জ দেওয়ার জায়গায় বিদ্যুতের একটি মিটার রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে খুঁটি থেকে সরাসরি তারও টানা রয়েছে। তবে রিকশায় কোন লাইন থেকে চার্জ দেওয়া হচ্ছে, তা বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছিল না।

তেজগাঁও এলাকার গ্যারেজ কর্মচারী ও অটোরিকশার চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকায় দেড় শতাধিক অটোরিকশার গ্যারেজ রয়েছে। এসব গ্যারেজে ৮-১০ হাজার অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হয়। শ্রমিক-কর্মচারীদের মতে, বেশির ভাগ গ্যারেজে একটা বৈধ মিটার থাকলেও বিদ্যুতের খুঁটি থেকে গোপনে অবৈধ লাইন টেনে চার্জ দেওয়া হয়।

অটোরিকশায় সাধারণত ৪-৬টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি থাকে, যা সম্পূর্ণ চার্জ হতে ৮-১০ ঘণ্টা সময় নেয়। প্রতিটি রিকশার চার্জের জন্য দিতে হয় ১০০ টাকা।

ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ গ্যারেজের মিটারই লুকানো। গ্যারেজগুলোতে কোথাও ফুটপাত বা দেয়ালের সঙ্গে বিদ্যুতের তার টানানো, কোথাও গাছের সঙ্গে ঝুলে আছে তার। তাই হঠাৎ দেখে বৈধ না অবৈধ, তা বোঝার উপায় নেই।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রাজধানীতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ হাজার অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এই তালিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

শিল্পাঞ্চল এলাকার রিকশাচালক কালাম (ছদ্মনাম) বলেন, ‘মিটার ব্যবহারের কথা বলা হলেও বাস্তবে অধিকাংশ চার্জিংই অবৈধভাবে চলে।’ কালামের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলার সুযোগেই এ অবৈধ চার্জিং চলতে পারছে। তাঁর মতে, কিছু অসাধু কর্মচারীর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমেই তা চলছে।

পদ্মা গার্মেন্টস মোড়ের এক গ্যারেজকর্মী বলেন, মিটার নিয়ে গ্যারেজ চালালেও অনেকেই অবৈধভাবে চার্জ দেন। মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে অটোরিকশা জব্দও করা হয়।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) সূত্রে জানা যায়, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করার জন্য সরকারিভাবে ১২টি স্টেশনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট বন্ধে গত দুই মাসে ১৭ বার অভিযান চালানো হয়েছে।

অবৈধ এ কার্যক্রমে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ কার্যত নাকচ করেছেন ডিপিডিসির ঢাকার তেজগাঁও নেটওয়ার্ক অপারেশন অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই। অবৈধভাবে যাঁরা অটোরিকশায় চার্জ দেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই। কোনো কর্মকর্তা অবৈধ চার্জিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে তো আর তা করতে পারতাম না।’

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়