
নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নাফ নদী দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলাকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পৃথক করা এই নদী একদিকে যেমন রোহিঙ্গা সংকটের সাক্ষী, অন্যদিকে মাদক ও মানবপাচারের একটি বড় রুট হিসেবেও পরিচিত।
বিশেষ করে ইয়াবা পাচারের ক্ষেত্রে নাফ নদী বহু বছর ধরে অন্যতম প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে এই চিত্রে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিয়মিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার এবং পাচারকারীদের গ্রেফতারের ঘটনা বাড়লেও চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বরং কৌশল বদলে পাচারকারীরা এখন গভীর সমুদ্রপথ ব্যবহার করছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ইয়াবা পরিবহনে বেশি অর্থ পাওয়ার লোভে স্থানীয় অনেক জেলে এই চক্রে জড়িয়ে পড়ছে। পাচারকারীরা মাছ ধরার ট্রলার ব্যবহার করে সহজেই নজরদারি এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে ট্রলারে থাকা মাছ বা অন্যান্য পণ্যের বিনিময়ে মাদক সংগ্রহ করা হয়। এ চক্রে কিছু রোহিঙ্গার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, নাফ নদীজুড়ে ২৪ ঘণ্টা টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে শাহপরীর দ্বীপ ও টেকনাফ মোহনা এলাকায় স্মার্ট পেট্রোলিং, অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই কঠোর নজরদারির কারণেই পাচারকারীরা এখন নদীপথ ছেড়ে গভীর সমুদ্রে ঝুঁকছে।
গত এক বছরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৫০ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৮৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে সাড়ে ৫ কেজি আইস এবং আটক করা হয়েছে ৪৭১ জন মাদক কারবারি।
তবে মাদকবিরোধী এই অভিযানে কোস্ট গার্ডকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে গোপনে পাচারের চেষ্টা, সীমিত জনবল এবং আধুনিক সরঞ্জামের ঘাটতি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
এরপরও কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন সংলগ্ন নদী ও সমুদ্রপথে মাদকপাচার রোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কোস্ট গার্ড। সন্দেহজনক ট্রলারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার শাহীন আলম জানান, মাদক পাচার রোধে আমরা ২৪ ঘণ্টা টহল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন নৌযানগুলো নিয়মিত তল্লাশি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সেন্টমার্টিন স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার মারুফ আহমেদ সৌখিন বলেন, পাচারকারীরা রাতে বেশি সক্রিয় থাকে। তাই রাতের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং কার্যক্রম সফল করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, নাফ নদীতে নজরদারি আরও শক্তিশালী করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো গেলে মাদকপাচার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
