বৃহস্পতিবার ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

সীতাকুণ্ডে দুইশত বছরের পুরোনো পুকুর ভরাট করে পার্কিং নির্মাণ!

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১১১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সীতাকুণ্ডে দুইশত বছরের পুরোনো পুকুর ভরাট করে পার্কিং নির্মাণ!

মোঃ জয়নাল  আবেদীন: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দীঘি, পুকুর ও জলাশয় ভরাট যেন এক নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সরকার পরিবর্তনের পর জলাশয় ভরাটে এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চরম বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে কখনো দিনে, আবার কখনো রাতের অন্ধকারে পরিবেশ ধ্বংসের এই উৎসব চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। কেউ কেউ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে জীববৈচিত্র্য বিপন্ন করলেও রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।

সর্বশেষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও কেডিএস ডিপোর সামনে প্রায় দুইশত বছরের পুরোনো একটি বিশাল পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পুকুরটির চারদিকে বাঁশের বেড়া দিয়ে ভেতরে স্ক্র্যাপের ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট কার্যক্রম চলছে। ইতিমধ্যে ভরাটের একটি অংশে অবৈধভাবে কাভার্ডভ্যান পার্কিং শুরু হয়েছে, যেখানে প্রতিটি গাড়ি থেকে দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

মহাসড়কের ঠিক পাশেই এমন বেআইনি কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা নেই। স্থানীয় এক ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ আক্ষেপ করে বলেন, “এই পুকুরটি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রিজভী পার্কিং করার জন্য পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে, যা আমাদের চোখের সামনে এক ঐতিহাসিক চিহ্ন মুছে দেয়া হচ্ছে।”

প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০ ও ২০২৩) অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের জলাশয় ভরাট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এমনকি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন পুকুর হলেও তার শ্রেণি পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। এই আইন অমান্য করলে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু সীতাকুণ্ডে এসব আইনের কোনো প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা: পুকুর ভরাটের বিষয়ে জানতে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন এবং চট্টগ্রাম জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মুজাহিদুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের এমন নিরবতা ও ফোনে অসহযোগিতাকে দায়িত্বের চরম গাফিলতি হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়