
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

দেশজুড়ে ‘ফুয়েল পাস’ চালুর অংশ হিসেবে আরও ১৯ জেলায় নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করার কথা জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। সোমবার মন্ত্রণালয়ের ফেইসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন তালিকায় আছে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম।
মন্ত্রণালয়ের পোস্টে বলা হয়, দেশব্যাপী ফুয়েল পাস সিস্টেম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সোমবার থেকে এসব জেলায় নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় ফুয়েল পাস নিবন্ধন চালু করা হবে।
ব্যবহারকারীদের মতামত, অভিযোগ ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য ফুয়েল পাসের অফিসিয়াল ফেইসবুক গ্রুপে যুক্ত হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা আনা, নজরদারি বাড়ানো এবং বিতরণ আরও স্বচ্ছ করার কথা বলে সরকার ফুয়েল পাস ব্যবস্থা চালু করে।
এর আগে ১৮ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের আরেক পোস্টে বলা হয়, ফুয়েল পাস বিডি অ্যাপের পাইলট কার্যক্রম বাড়াতে ঢাকার বাইরে কয়েকটি জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার নিবন্ধিত মোটরসাইকেলকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকা জেলায় আরও ১৮টি পেট্রোল পাম্পে পাইলটিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথাও জানানো হয়।
সেই তালিকায় ছিল ঢাকা মহানগর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম মহানগর, বরিশাল, বরিশাল মহানগর, খুলনা, খুলনা মহানগর, রাজশাহী, রাজশাহী মহানগর ও ময়মনসিংহ। ফুয়েল পাসের ওয়েবসাইটে এই ব্যবস্থাকে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, কিউআর কোডভিত্তিক পরিচয় ও নিয়ন্ত্রিত বিতরণের মাধ্যমে জ্বালানি বিক্রিতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যেই এটি চালু করা হয়েছে। তবে ওয়েবসাইটে এটিও উল্লেখ আছে, এটি এখনো পাইলট বা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।
মোবাইল অ্যাপভিত্তিক এই ব্যবস্থা প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ৯ এপ্রিল রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ও আসাদ গেটের সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশনে চালু করা হয়। প্রথম ধাপে শুধু মোটরসাইকেলচালকদের জন্য এই সেবা খোলা রাখা হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পর দেশে পাম্পে দীর্ঘ লাইন, তেল না পাওয়া, কোথাও কোথাও বিশৃঙ্খলা এবং কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ সামনে আসে। এই অবস্থায় বিক্রি ও বিতরণে নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি ও শৃঙ্খলা আনতে ডিজিটাল ব্যবস্থার পথে যায় সরকার।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, এই ব্যবস্থা চালু হলে জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়বে, অপচয় ও অনিয়ম কমবে এবং সংকটের সময়ে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। একই সময়ে সারাদেশে জ্বালানি বিক্রিতে অনিয়ম ও মজুদপ্রবণতার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও চলছিল।
