
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

‘সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠে রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে যাই। কিন্তু লাইনের কূলকিনারা পাইনি। ছুটে আসি পরীবাগের মেঘনা ফিলিং স্টেশনে। কিন্তু এখানেও প্রথমে লাইনের কোনো কূলকিনারা পাইনি। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করে বাংলামোটর হয়ে হাতিরপুলে গিয়ে সকাল পৌনে ৭টায় লাইনে দাঁড়াই। অপেক্ষা করতে করতে এই পাম্পের কাছে আসি বেলা ৩টার দিকে। ২ হাজার টাকার তেল পেলাম। ভোগান্তি কারে কয় বোঝানো যাবে না।’
রাজধানীর মালিবাগ এলাকার চালক মো. সেন্টু এভাবেই তেল পেতে ভোগান্তির কথা জানান। ভোগান্তির এই চিত্র শুধু এই পাম্পগুলোতেই নয়, গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে অভিন্ন চিত্র।
ফিলিং স্টেশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় দিনের অধিকাংশ সময় পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এ জন্য চালকদেরও লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকছে। কিন্তু চালকরা তেল পাওয়ার জন্য বিভিন্ন দিক ঘুরে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।
অন্য দিনের মতো গতকালও দুপুরে দেখা যায় আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশন বন্ধ। করিমসহ অনেক চালক বলেন, ‘সকাল ৮টায় চন্দ্রিমা উদ্যানে লাইনে দাঁড়াই। এখন বেলা ৩টা বাজে। কখন তেল পাব জানি না। কারণ পাম্প থেকে কিছুই জানাচ্ছে না।’ লাইনে দাঁড়ানো অনেকেই রাইড শেয়ার করেন। কিন্তু তেল পেতে ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না তাদের।
এদিকে পাম্প বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্টরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। এ ব্যাপারে পাম্প অপারেটর সবুজ আলী বলেন, ‘তেল নেই। কারণ চাহিদা মতো পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পাম্প বন্ধ। লাইন যতই বড় হোক, আমাদের করার কিছু নেই।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে তেল এলে রাতেই শেষ হয়ে যায়। এ জন্য দিনের অধিকাংশ সময় তেল পাচ্ছেন না চালকরা। বেশি পেলে এ সমস্যা থাকবে না। কিন্তু ডিপো থেকে তো দিচ্ছে না।’
আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনেও দেখা যায় চালকদের দীর্ঘ লাইন। অন্য দিনের মতো মোহাম্মদপুর পোস্ট অফিসের পাশ দিয়ে ইকবাল রোড থেকে দীর্ঘ লাইন। তাদের আসাদগেটে আসতেই অধিকাংশ সময় পার হয়ে যাচ্ছে। পাম্পে দেখা যায় মোটরসাইকেলে ৫০০ টাকার এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে ২ হাজার টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। সজিব নামে একজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘বিভিন্ন দিক ঘুরে অবশেষে ইকবাল রোডে লাইন দিয়ে ২ ঘণ্টা পর এখানে আসি। পেলাম ৫০০ টাকার তেল।’
এ ব্যাপারে পাম্পের ম্যানেজার হিমালয় বলেন, ‘তেল না পাওয়ায় ঢাকা শহরের অধিকাংশ পাম্প বন্ধ থাকছে। চাহিদার অর্ধেকও পাচ্ছি না। এ জন্য চালকদের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে।’
রাজধানীর তেজগাঁও, নীলক্ষেত, কল্যাণপুরসহ অন্য ফিলিং স্টেশনেও দেখা যায় অভিন্ন দৃশ্য। তেল না থাকায় অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তেল সরবরাহের কোনো সংকট নেই। তবে মানুষের আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনা বন্ধ হয়নি। এর ফলে সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটছে। পাম্প মাঝে মাঝে বন্ধ থাকছে।
