শনিবার ৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

কাজ শেষ হতেই সড়কে ধস

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৫৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

কাজ শেষ হতেই সড়কে ধস

সূতি নদীর পার ঘেঁষে নির্মিত নতুন সড়কেই ধরেছে ফাটল। কোথাও সড়কের নিচ থেকে সরে গেছে মাটি। নদীর তীরে বসানো কংক্রিটের ব্লকগুলো খুলে পড়ে যাচ্ছে পানিতে। এমন চিত্র গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি-দমদমা সড়কের।

গাজীপুর জেলা শহরের সঙ্গে সহজ যোগাযোগের স্বপ্ন নিয়ে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই বেহাল হয়ে পড়েছে। সূতি নদীর পারঘেঁষা সড়কটির প্রায় ৫০০ মিটার অংশ ধীরে ধীরে দেবে যাচ্ছে নদীর দিকে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও বাড়ছে ফাটল, সরে যাচ্ছে মাটি, ভেঙে পড়ছে তীর রক্ষা ব্লক। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাড়াহুড়ো করে নদীর পার ভরাট করে এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে সড়কটি নির্মাণ করায় এমন অবস্থা হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের কয়েকটি অংশে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। কোথাও সড়কের কিনারা ভেঙে নিচে নেমে গেছে, কোথাও আবার পিচঢালা অংশে দেখা দিয়েছে চওড়া চিড়। নদী তীরে বসানো কংক্রিট ব্লকগুলো একের পর এক আলগা হয়ে স্রোতে ভেসে যাচ্ছে। ধস ঠেকাতে বালুভর্তি বস্তা ফেলে এবং ভাঙা ব্লক সরিয়ে রেখে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি নেই। ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে যানবাহন। সামান্য অসাবধানতায় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্যমতে, শ্রীপুর উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ দূর করতে ২০২১ সালে রাজাবাড়ি থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কাজটি পায় মেসার্স সালাম ট্রেডার্স। ২০২৪ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে সময় বাড়তে বাড়তে প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০২৬ সালে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি; কয়েক মাসের মাথায়ই শুরু হয় ধস।

আকবর আলী নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নদীর পারে বালু-মাটি ফেলে দ্রুত ভরাট করা হয়েছিল। সেই মাটি ভালোভাবে বসার আগেই রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এখন মাটি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কও দেবে যাচ্ছে।

আবুল খায়ের নামে একজন বলেন, শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি ছিল। ব্লক বসানোর কাজেও অনিয়ম হয়েছে। এখন ব্লকের জোড়া খুলে গিয়ে নদীতে পড়ে যাচ্ছে। তারা প্রতিবাদ করেছিলেন, কিন্তু কেউ শুনতে চাননি।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ধস ঠেকাতে জোড়াতালির চেষ্টা চলছে। কোথাও বালুর বস্তা ফেলে, কোথাও ব্লক সরিয়ে রেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস ছালামের ভাষ্য, কিছু অংশ দেবে গেছে। জামানতের টাকা রয়েছে। যতবার ভাঙবে, ততবার মেরামত করা হবে।

শ্রীপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্নমানের কাজের অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাজীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বলেন, দুইবার ধসে পড়া রাস্তা পরিদর্শন করেছেন তিনি। খালের পাড়ে ৩০-৩৫ ফুট রাস্তা দেবে গেছে। রাস্তার উল্টা পাশে বাড়িঘর আছে। সেখান থেকে বৃষ্টির পানি রাস্তা গড়িয়ে গিয়ে খালে পড়ে। এই কারণে কিছু ব্লক সরে গেছে। ইতোমধ্যে ঠিকাদার মেরামত শুরু করেছেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 ১২৩৪৫
৭৮৯১০১১১১৩
৪১৫১৬১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৯৩০ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়