
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরবেন। দেশে ফিরে তার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের নতুন দায়িত্ব পালনকালে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেবেন, নাকি দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে চালাবেন এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হলে কী করবেন সেটা নিজেই জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। গত ১৩ মে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা জানান তিনি। ওই অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে অ্যান্ডোরার প্রতিনিধি জানতে চেয়েছিলেন, সাধারণ পরিষদের পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হলে তাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে কি না। তখন খলিলুর রহমান বলেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে জাতিসংঘে পূর্ণকালীন দায়িত্ব হিসেবে এই পদ গ্রহণের জন্য তাকে এক বছরের ছুটি দেওয়া হবে। পদত্যাগই একমাত্র বিকল্প নয়, বরং তিনি ছুটিতেও যেতে পারেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে–ড. খলিলুর রহমান এক বছরের ছুটি নিলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কে চালাবেন? ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় আছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিয়ে আগামী এক বছর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও রয়েছেন। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারেক রহমান খলিলুর রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। তিনি ফিরলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নেবেন বলে জানা গেছে।
কূটনীতিকদের মতে, ৪০ বছর আগে বাংলাদেশ যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পায়, তখনো একই সঙ্গে দুই পদে থাকার নজির ছিল। কিন্তু ৪০ বছর আগের বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিধি এবং এখনকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিধির মধ্যে রয়েছে অনেক পার্থক্য। এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিধি অনেক বড়। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাল শক্ত কারও হাতে থাকা নিরাপদ। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের এই পদে যারা প্রার্থী ছিলেন, তারা রাষ্ট্রীয় কোনো দায়িত্বে ছিলেন না। সাবেক কূটনীতিক, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক প্রেসিডেন্টরা এমন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ বিষয়ে গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবেন কি না, সেটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি, এটা ওনাদের দুজনের সিদ্ধান্তে হবে। খলিলুর রহমানকে যদি নিবেদিতভাবে জাতিসংঘের সভাপতির কাজ করতে হয়, তাহলে জাতিসংঘে সময়টা দিতেই হবে। তার মানে এই নয় যে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি, এটা ওনাদের দুজনের সিদ্ধান্তে হবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বছরের ছুটি নিচ্ছেন কি না–এমন প্রশ্নে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সেটা পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। আর সেটা নিশ্চয় আপনারা জানবেন।’
গুঞ্জন উঠছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের দায়িত্ব পালনের জন্য এক বছর খলিলুর রহমান নিউইয়র্ক থাকবেন। তার পরিবর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামলানোর জন্য একজন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী আসবেন। এমন প্রশ্নে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে একেবারে অবগত নই। আমি মনে করি, এটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। ওনার সুদূর নেতৃত্বে যখন আমরা এই বিজয় অর্জন করতে পেরেছি, তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কীভাবে চলবে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।’
তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আজ দেশে ফিরছেন। ফিরে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করবেন। দীর্ঘ ৪০ বছর পর মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এই পদে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করলেন। তিনি এক বছরের জন্য সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব সামলাবেন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর এই অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবং ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক।
