শুক্রবার ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

তেইশের চেয়ে পঁচিশে সেবা খাতে ১৫.৯ শতাংশ বেশি দুর্নীতি হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

তেইশের চেয়ে পঁচিশে সেবা খাতে ১৫.৯ শতাংশ বেশি দুর্নীতি হয়েছে

২০২৩ সালের রাজনৈতিক সময়ের চেয়ে ’২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেবা খাতে দুর্নীতি হয়েছে ১৫.৯ শতাংশ বেশি, এমন তথ্য ওঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) জরিপে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’-এর প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি। এতে ওঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক চিত্র। নভেম্বর ২০২৪ থেকে অক্টেবর ২০২৫ পর্যন্ত চালানো হয় এই জরিপ।

এতে উঠে আসে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ২০২৫ সালে সেবাখাতে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে, যা ২০২৩ এর তুলনায় ১৫.৯ শতাংশ বেশি।

দেশের সরকারি সেবা খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি ও ঘুষের শিকার হতে হয় পাসপোর্ট অফিসে, যার ঠিক পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

পাসপোর্ট সেবায় সর্বোচ্চ ৮৪.৪ শতাংশ গ্রাহক দুর্নীতির এবং ৭৬.৬ শতাংশ ঘুষের শিকার হয়েছেন; অন্যদিকে বিআরটিএ-তে এই দুর্নীতির হার ৭৯.৩ শতাংশ এবং ঘুষের হার ৬৩.৫ শতাংশ।

খাতভেদে সেবা গ্রহণে ঘুষের শিকার হওয়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ৪৯.৩ শতাংশ, কৃষি ৪৯.৩ শতাংশ, ভূমি ৪৭.৬ শতাংশ, বিচার সংশ্লিষ্ট সেবা ৩৯.৬ শতাংশ, শিক্ষা (সরকারি ও এমপিওভুক্ত) ৩৪.৮ শতাংশ, স্বাস্থ্য (সরকারি) ২৯.৭ শতাংশ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ২৭.৭ শতাংশ, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ২১.৯ শতাংশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ সহায়তা ১২.৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ ৬.৮ শতাংশ, গ্যাস ৬ শতাংশ, কর ও শুল্ক ২.৮ শতাংশ, বিমা ২.৭ শতাংশ, ব্যাংকিং (সরকারি ও বেসরকারি) ১.৪ শতাংশ এবং এনজিও (প্রধানত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ) ১.৪ শতাংশ।

খাতভেদে সেবা গ্রহণে দুর্নীতির শিকার হওয়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, বিচার সংশ্লিষ্ট সেবা ৭১.৩ শতাংশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ৬৯.৪ শতাংশ, ভূমি ৬৬.৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য (সরকারি) ৬৪.৪ শতাংশ, কৃষি ৬৪.৪ শতাংশ, শিক্ষা (সরকারি ও এমপিওভুক্ত) ৫২.৫ শতাংশ, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ৪৭.৪ শতাংশ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ৪৬ শতাংশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ সহায়তা ৪১.৩ শতাংশ, বিদ্যুৎ ৩৬.১ শতাংশ, বিমা ২৫.৬ শতাংশ, গ্যাস ২৫.৪ শতাংশ, ব্যাংকিং (সরকারি ও বেসরকারি) ১৬.৩ শতাংশ, এনজিও (প্রধানত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ) ১৩.১ শতাংশ এবং কর ও শুল্ক ১১.২ শতাংশ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সার্বিকভাবে দেশের ৬৩.৬ শতাংশ মানুষ অন্তত একটি খাতে ঘুষের শিকার হয়েছে। আর সার্বিকভাবে দেশের ৮১.৬ শতাংশ মানুষ সেবা গ্রহণে কমপক্ষে একটি খাতে দুর্নীতির শিকার হয়েছে।

দুর্নীতিতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সেবাদাতাদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়নের সুপারিশ করেছে টিআইবি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়