
নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

লন্ডনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে ২৯ বছর বয়সী সৌদি রাজপুত্র আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ আল সাউদের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের একটি আদালত। অ্যালকোহল, বিষাক্ত পার্টি ড্রাগ এবং দুশ্চিন্তানাশক (অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি) প্রেসক্রিপশনের ওষুধের অতিরিক্ত মিশ্রণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে তদন্তে ওঠে এসেছে।
ইনার ওয়েস্ট লন্ডন করোনার্স কোর্ট এই মৃত্যুকে একটি দুর্ঘটনাজনিত প্রাণহানি হিসেবে রায় দিয়েছে। রাজপুত্র আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন কিংবা এই ঘটনার পেছনে অন্য কারও হাত ছিল- এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন সহকারী কর্নার জিন হারকিন।
২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর লন্ডনের কেনসিংটনের ম্যারিয়ট হোটেলের বাথরুমের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় রাজপুত্র আবদুল্লাহ বিন ফাহাদকে। হোটেলের গৃহপরিচারিকা তাকে পোশাক পরিহিত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে জরুরি সেবায় খবর দেন, কিন্তু প্যারামেডিক দল পৌঁছে তাকে মৃত ঘোষণা করে।
টক্সিকোলজি বা বিষবিজ্ঞান সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজপুত্রের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম- যা যুক্তরাজ্যে গাড়ি চালানোর বৈধ সীমার প্রায় তিনগুণ। এছাড়া তার শরীরে ক্ষতিকারক ‘জিএইচবি’ নামক পার্টি ড্রাগ, ক্যানাবিস এবং জ্যানাক্সসহ অন্যান্য দুশ্চিন্তানাশক ওষুধের উপস্থিতি ধরা পড়ে।
চিকিৎসকদের মতে, এই সবকটি উপাদানের একত্রিত মারাত্মক প্রতিক্রিয়ায় তার হৃদযন্ত্র ক্রিয়াহীন হয়ে পড়েছিল। তদন্তে আরও ওঠে আসে, রাজপুত্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অ্যালকোহল আসক্তিতে ভুগছিলেন এবং মৃত্যুর কয়েক মাস আগেই লন্ডনের একটি রিহ্যাব ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা শেষ করে বের হয়েছিলেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মৃত্যুর আগের রাতে তিনি একাই নিজের ঘরে ফিরেছিলেন এবং ঘরে জোরপূর্বক প্রবেশের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। সূত্র: ইনডিপেন্ডেন্ট
