শুক্রবার ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ নরেন্দ্র মোদির রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করছেন কি না, তাকেই জিজ্ঞেস করুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন কি পদত্যাগ করছেন? মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনালে জিয়াউর রহমান হত্যার আসামি মোজাফফর একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটির আট প্রকল্প অনুমোদন ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল বস্ত্র খাতের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই মন্ত্রিসভায় রদবদল প্রসঙ্গে যা বললেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ভাটারায় গ‍্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, শিশুসহ দগ্ধ ৩
Advertise with us

কয়েক হাজার কোটি টাকার পণ্য কনটেইনারের ভেতরেই নষ্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

কয়েক হাজার কোটি টাকার পণ্য কনটেইনারের ভেতরেই নষ্ট

চট্টগ্রাম বন্দরে কয়েক হাজার কোটি টাকা মূল্যের পণ্যবোঝাই প্রায় ১০ হাজার কনটেইনার নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটেনি। প্রায় ১০-১৫ বছর আগে থেকেই এসব পণ্য নিলামে বিক্রির জন্য ৮০ দফা চিঠি দেওয়া হলেও নানা জটিলতায় কনটেইনারেই নষ্ট হচ্ছে অনেক পণ্য। এত পরিমাণ কনটেইনার দীর্ঘদিন আটকে থাকায় বন্দরে জট তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল ও ইয়ার্ডে পড়ে আছে ৯ হাজার ২৭৮টি নিলামযোগ্য কনটেইনার। এসব কনটেইনারে রয়েছে প্রায় ২ লাখ টন আমদানি করা পণ্য। যার মূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা। বন্দরের আইন অনুযায়ী, জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারক পণ্য গ্রহণ না করলে তা কাস্টমসের মাধ্যমে নিলাম বা ধ্বংস করার কথা। অথচ বছরের পর বছর নিলামযোগ্য কনটেইনারগুলো পড়ে আছে বন্দরে। শুধুমাত্র নিলামযোগ্য এসব কনটেইনার বন্দরের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ জায়গা দখল করে আছে। সেই সঙ্গে বছরের পর বছর পড়ে থাকার কারণে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ছে কনটেইনারগুলো। এসব কনটেইনার নানা কারণে বন্দর থেকে খালাস নেয়নি আমদানিকারকরা। বাজার দর কমে যাওয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা, শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতাসহ নানা কারণে খালাস নেওয়া হয়নি।

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় নয় হাজার কনটেইনার পণ্য নিলামের অপেক্ষায় থাকলেও কাস্টমস হাউস প্রতি মাসে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ২০ থেকে ৩০টি কনটেইনারের পণ্য বিক্রি করে থাকে। বিডারদের উপস্থিতিতে মাইকিং করে এই নিলাম পরিচালনা করা হয়। নিলামে কমলা, মাল্টা, খেজুর, আদাসহ বিভিন্ন পচনশীল পণ্য থাকে। এ ছাড়া কিছু কনটেইনারের পণ্য ই-অকশনের মাধ্যমেও বিক্রি করা হয়।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বন্দরের বিভিন্ন শেড এবং ইয়ার্ডে নিলামের অপেক্ষায় আছে নয় হাজার ২৭৮টি পণ্যবোঝাই কনটেইনার। এর মধ্যে ২ হাজার ৭০০টি ২০ ফুট এবং ৬ হাজার ৫৭৮টি ৪০ ফুট কনটেইনার। যার মধ্যে ১০-১৫ বছর আগের কনটেইনারও আছে। যেগুলোর পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (মেরিন অ্যান্ড হারবার) কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘বন্দরের বর্তমান সক্ষমতা অনুযায়ী ১৫ থেকে ২০ শতাংশ নিলামযোগ্য কনটেইনার জায়গা দখল করে আছে। এটা যদি চলে যায় সেক্ষেত্রে আমরা বিশাল এরিয়া পাবো, যেখানে নতুন করে আমদানি-রফতানির পণ্য হ্যান্ডলিং করার জায়গা পাবো।’

কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দুই হাজার ৬৯৭টি কনটেইনার নিলামের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হলেও অনুমোদন মিলেছে এক হাজার ৬১৯টির। এ ছাড়া গত বছর ৪৯৩টি এবং চলতি বছরে আরও ৪৯৫টি কনটেইনার নিলাম শেষে বিডারদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অর্থাৎ দেড় বছরে মোট ৯৮৮টি কনটেইনার খালাস হলেও এর মধ্যে নিলামের তালিকায় নতুন করে আরও কয়েকশ কনটেইনার যুক্ত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, ‘নিলামে কনটেইনারের পণ্য বিক্রির প্রক্রিয়া আছে। বিধি মোতাবেক এটি করতে হয়। প্রক্রিয়াগত কারণে নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন করতে দেরি হচ্ছে। তবে গতিশীলতার মধ্যে দিয়ে নিলাম কার্যক্রম চলছে।’

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহসভাপতি খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‘নিলাম কার্যক্রম শেষ না হওয়ার কারণে বছরের পর বছর কনটেইনারগুলোতে থাকা পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে এবং যাচ্ছে। একইভাবে কনটেইনারগুলো ব্যবহার অযোগ্য হচ্ছে। এতে শিপিং এজেন্টরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই আমরা একাধিকবার চিঠি দিয়ে এবং সভা-সেমিনারেও বলেছি যাতে দ্রুত নিলাম কার্যক্রম শেষ করা হয়।’

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়