
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলসহ সর্বত্র গতকাল দিনভর ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সারা দিনই এই তথ্যটি ছিল টক অব দ্য টাউন। সেই পোস্টে দাবি করা হয়, রাষ্ট্রপতির পতদ্যাগের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিকে রাষ্ট্রপতি করা হবে।
তবে সরকারসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে বিএনপির সর্বজনগ্রাহ্য একজন শীর্ষ মন্ত্রীকে এই দায়িত্বে নির্বাচন করা হতে পারে।
গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে বঙ্গভবনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় খবরের সত্যতা নিরূপণের জন্য। কিন্তু এ নিয়ে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি আসেনি। পদত্যাগ না করলে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা।
বঙ্গভবন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে পদত্যাগের কথা জানিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির কথা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন। এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যান।
গণমাধ্যম জানায়, তাদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ফোনে না পাওয়ায় তাকে এসএমএস করা হয়েছিল গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে। জবাবে ফিরতি এসএমএসে সরওয়ার বলেন, ‘আপনার মতো আমিও (খবরটা) দেখছি।’
বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি আমাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রায়ই বলেন, ‘শরীরটা ভালো যাচ্ছে না, যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। দেশে ফিরে ২৭ জুন তিনি জাতীয় সংসদে সফরের অর্জন নিয়ে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতিকে তার সফরের বিষয়ে অবহিত করার রেওয়াজ রয়েছে।
তবে তারেক রহমান গতকাল বুধবার পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বা অন্য কোনোভাবে সফরের ফল তাকে অবহিত করেছেন–এমন কোনো তথ্য বঙ্গভবন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশ করেনি।
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে কী হবে
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। আর ৪৮(১) অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে।
ফলে পছন্দের তালিকায় নাম থাকলেই কাউকে সরাসরি রাষ্ট্রপতি নিয়োগের সুযোগ নেই। তাকে প্রার্থী হতে হবে এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হতে হবে।
