
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের বিভিন্ন এলাকায় রেললাইন ঘেঁষে অবাধে যানবাহন পার্কিং করায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। রেলওয়ের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক করা হলেও চালকেরা তা মানছেন না।
ফলে ট্রেন চলাচলের সময় রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বোয়ালখালী এলাকায় রেললাইন ঘেঁষে রাখা একটি টেম্পোর সঙ্গে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ঘর্ষণ হয়। এতে ট্রেনটির একটি দরজা খুলে পড়ে যায়। এ সময় কয়েকজন যাত্রী আহত হয়।
এর আগেও একই রুটের বিভিন্ন এলাকায় রেললাইন ঘেঁষে পার্কিং করা অটোরিকশা, টেম্পো ও মোটরসাইকেলের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।
বোয়ালখালী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আনোয়ারুল হক তারেক বলেন, ট্রেন যখন আসে, একজন নিরাপত্তাকর্মী আগে থেকেই আশপাশের গাড়ি বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দিতে নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু এখানে সেই ব্যবস্থা নেই। তারপরও গেটকিপার যতটুকু পারেন, দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তার কথা তো সবাই শোনেন না। যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, রেললাইনের আশপাশে যানবাহন পার্কিং ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা থাকলে ট্রেন চলাচলের সময় ঝুঁকি তৈরি হয়। এ বিষয়ে স্থানীয়দের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
পটিয়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কাঞ্চন ভট্টাচার্য বলেন, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই তারা গাড়ি পার্কিং করেন। আমরা নিরাপত্তা দেয়াল পর্যন্ত নির্মাণ করেছি। এরপরও তারা রেললাইন ঘেঁষে গাড়ি পার্কিং করে চলে যান। যার কারণে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেললাইন ঘেঁষে গাড়ি পার্কিং শুধু রেল চলাচলের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ নয়, এতে যাত্রীদের জীবনও হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে কক্সবাজার রুটে পর্যটক এক্সপ্রেসসহ ট্রেন চলাচল বাড়ায় রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।
রেলওয়ে আইন অনুযায়ী রেলপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কিংবা ট্রেন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। এরপরও মাঠপর্যায়ে রেললাইনের পাশে অবাধে যানবাহন পার্কিং বন্ধ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে নজরদারি ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে।
এ বিষয়ে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) পূর্বাঞ্চল, চট্টগ্রামের চীফ কমান্ড্যান্ট মো. জহিরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেললাইনের পাশে অবৈধ পার্কিং বন্ধে শুধু সতর্কতা নয়, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। তা না হলে ছোটখাটো এসব সংঘর্ষ যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে।
