
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম নগরীতে মাসব্যাপী বিশেষ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। নগরীর আটটি হটস্পটে (ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা) বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হবে এ কার্যক্রম। আর এই মশক নিধন কার্যক্রম তদারকিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চসিকের ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এসব তথ্য জানান চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আশরাফুল আমিন। বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে এদিন সকালে নগরীর সেন্ট প্ল্যাসিডস স্কুলের সামনে থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ম্যাজিস্ট্রেট ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, গোলাম বাকি মাসুদসহ রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এমএসএফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চসিক জানিয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিহ্নিত চট্টগ্রাম নগরীর আটটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করে মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস, লার্ভা নিধন এবং প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হবে।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আশরাফুল আমিন বলেন, মশক নিধন কার্যক্রম তদারকিতে চসিকের ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাস তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবেন। কোথাও ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে বিটিআই ব্যবহার করছে চসিক। এর ফলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছর এ সময়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৮০০-এর বেশি ছিল। চলতি বছরে তা প্রায় ৫৫০ থেকে ৫৮০ জনের মধ্যে রয়েছে। একই সময়ে গত বছর ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু হলেও চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
চসিকের এ কর্মকর্তা বলেন, নগরীর ২, ৩, ১৭, ১৮, ১৯, ৩২, ৩৪ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি শতাধিক কর্মীকে মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত জনবল দিয়ে কাজ করার পাশাপাশি নগরীর অন্যান্য এলাকাতেও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
আশরাফুল আমিন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ প্রয়োগ করলেই হবে না। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা, জমে থাকা পানি ও বিভিন্ন স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করে তা ধ্বংস করা হবে।
জনসচেতনতা বাড়াতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে চসিকের এ কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে লিফলেট ও বিভিন্ন প্রচারমূলক কনটেন্ট বিতরণ করা হবে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
