
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের নেতৃত্বে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ফটিকছড়ি উত্তরের দাঁতমারা থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে হেঁয়াকো বাজারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর।
তিনি বলেন, ফটিকছড়িকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুশৃঙ্খল, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ এবং ফটিকছড়ি গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আগামী তরুণ প্রজন্মকে একটি সুশৃঙ্খল বাংলাদেশ ও ফটিকছড়ি উপহার দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে কথা বলেছিলেন—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চিন্তা যদি আমরা করি, তাহলে সবার আগে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের সচেতন হতে হবে। তাই মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানরা সন্ধ্যার পর কোথায় যায় এবং কী করে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদককারবারীদের এ অঞ্চলে কোনো স্থান হবে না। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদককারবারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত ফটিকছড়ি গড়ে তুলতে তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
সমাবেশে এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, নাজিরহাট থেকে ফটিকছড়ি হয়ে ফটিকছড়ি উত্তর দিয়ে রেলপথ সম্প্রসারণ করা হবে। এ রেলপথের মাধ্যমে রামগড়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া হেঁয়াকো এলাকাকে পৌরসভায় উন্নীত করা, ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা এবং একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
র্যালিতে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মো. ইব্রাহীম, ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহির আজম চৌধুরী, জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব নাজিম উদ্দীন শাহীন, আবুল খায়ের, আবু মেম্বার, মোজাম্মেল হায়দার বাবু, বিপ্লব, বোরহান মেম্বারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ, দলীয় নেতা-কর্মীরা, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক সমাজ, সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের মানুষ এবং সর্বস্তরের প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন।
