
নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একইসঙ্গে সিলেটে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের ড্রেনেজ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যাবতীয় সমস্যা ৭ দিনের মধ্যে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে একটি চক্র রোগীদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এই দালাল চক্রকে ধরার জন্য ডিজিএফআই, র্যাবসহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করছে।’
এরই মধ্যে বহু হাসপাতালে তারা অভিযান পরিচালনা করেছেন। এসব অভিযানের ফলে পূর্বের চেয়ে দালাল চক্রের উৎপাত কমেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘জেলাগুলোতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ সময় অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ক্লিনিক সিলগালা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘যেসব ক্লিনিকে অবৈধ চিকিৎসক এবং ভুয়া সনদধারী টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানও সিলগালা করা হচ্ছে।’
তিনি নিজে এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ করে অভিযান পরিচালনার বিষয়টি তদারকি করছেন বলেও জানান।
ডাক্তারদের উপস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত এক মাসে ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করে তিনি চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছেন। তার পরিদর্শনের পর রোগীরাও চিকিৎসকদের আচরণ ও হাসপাতালের খাবারের মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
হামের সংক্রমণ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বর ২০২০ -এর পর দীর্ঘদিন নিয়মিত হামের টিকা ক্যাম্পেইন না হওয়ায় দেশে টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা বেড়ে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ক্যাম্পেইনের পরও নতুন করে টিকাদানের উপযুক্ত হওয়া শিশুদের একটি অংশ এবং সচেতনতার অভাবে সময়মতো টিকা না পাওয়া শিশুরা টিকাবঞ্চিত থেকে গেছে, ফলে তাদের মধ্যে হাম ছড়াচ্ছে।’
তিনি জানান, বিশ্বব্যাংক ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন এনে টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
