
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেন্টার গুঁড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রত্যাহার করা হয়েছে শাহ আলী থানার ওসিকে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বললেন, ঘটনা ভিন্ন দিকে নেয়ার চেষ্টা করছে একটি মহল। আজ (সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর) গুড়িয়ে দেয়া মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি। এর আগে, এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এ হামলা চালানো হয়েছে।
এক রাতের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় অর্ধশত বছর ধরে সেবা দিয়ে আসা রাড্ডার এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু তবুও দমে যাননি এ সেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। সরজমিনে এসে দেখা যায়, গুড়িয়ে দেয়া মেডিকেল সেন্টার সামনে ক্যাম্প তৈরি করে স্বাস্থ্য সেবাদান চলছে।
হামের টিকা থেকে শুরু করে অন্তসত্ত্বাদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হতো এই সেন্টার থেকেই। স্থানীয়দের কেউ কেউ ৩ প্রজন্ম ধরে টিকা নিচ্ছে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে। পুরো সেবা চালু হতে কতদিন লাগবে ? এ নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার কথা জানালেন।
রাড্ডার এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক জন বলেন, ‘প্রতিদিন এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী টিকা ও বিভিন্ন সেবা নিতে আসে।’
এদিকে, গুড়িয়ে দেয়া ভবন ও লুটের অর্থের হিসেব কষেছে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরতরা। এ ঘটনায় দেড় কোটি টাকা সরকারি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠান প্রধানের।
রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। আর এই ধ্বংসের ফলে আমাদের প্রায় দেড় কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।’
তবে রাড্ডায় এত বড় হামলা কীভাবে ঘটল পুলিশের উপস্থিতিতে? এ প্রশ্ন আর সমালোচনার মধ্যে শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন স্বীকার করেছেন, ভাঙচুরের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ছিলো। এ ঘটনার দুই দিন পর বদলি করা হয়েছে মিরপুর থানার ওসিকে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯ জনকে। তবে অভিযোগের তীর যার দিকে সেই ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সকালে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসেন এনসিটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। তার অভিযোগ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠোপোশকতা এ ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি তার।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহামুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘পুলিশ এখানে নিশ্চিত করেছেন যেন এখানে এসে মবতন্ত্র কায়েম করতে পারে। এই ঘটনার যদি সুস্থ তদন্ত করা হয় তাহলে বুঝতে হবে রাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী থেকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যারা আছেন সবাই এর ভাগ পাবেন।’
এরপরই বিকেলে ভাংচুরের স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বলেন, রাজনৈতিক একটি মহল চরিতার্থ করার জন্য ঘটনা ভিন্ন দিকে নেয়ার চেষ্টা করছে। সোমবার গুড়িয়ে দেয়া মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার কাজ শুরু করার কথা জানান তিনি।
২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মুখোশধারী দুই শতাধিক লোকের হামলায় তছনছ হয়ে যায় পুরো প্রতিষ্ঠান। প্রথমে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে আটকে রেখে লুটপাট চালানো হয়। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন। লুট হয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা, নগদ অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। শনিবার রাতে লুট হওয়া সরঞ্জামের দুই ট্রাক উদ্ধার করা হয়।
