
নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

দেশের কৃষি খাতকে উৎপাদননির্ভরতা থেকে উদ্যোক্তা ও বাজারমুখী ব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবিত ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়নে ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রি এন্টারপ্রেনারশিপ প্রজেক্ট (বিএপি)’ নামের এ প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
এতে কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতকে একই কাঠামোর আওতায় এনে উৎপাদনশীল অংশীদারি গড়ে তোলা, কৃষিসেবা ডিজিটাল করা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় কৃষক ও কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তাদের মধ্যে সংযোগ বাড়ানো, সরকারি কৃষিসেবায় ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত অনুসরণযোগ্যতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যুক্ত থাকবে। ডিএইকে প্রধান বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে রাখার প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পটির লিড ফোকাল শাখাওয়াত হোসেন শরীফ কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রকল্পটির অর্থায়ন, ব্যয়ের খাত ও কার্যক্রম এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। বিশ্বব্যাংক ও সরকারের মধ্যে আলোচনা এবং সমঝোতার ভিত্তিতে প্রকল্পের আকার ও কর্মপরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে প্রকল্পের কারিগরি নোট তৈরির কাজ চলছে।
সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এ উদ্যোগের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া ‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা রয়েছে।
বিদ্যমান কর্মসূচির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কৃষিকে আরো উৎপাদনশীল, বাজারমুখী ও জলবায়ুসহিষ্ণু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।
প্রথম পর্যায়ে চার উপাদানে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা : শাখাওয়াত হোসেন শরীফ জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পে চারটি প্রধান উপাদান রাখা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের চাহিদা, সরকারের অগ্রাধিকার ও নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বিবেচনায় নিয়ে এসব উপাদানের অধীনে বিভিন্ন কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে। এ জন্য প্রস্তুতি দলও গঠন করা হয়েছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রথম উপাদান ‘প্রোডাক্টিভ পার্টনারশিপ’ বা উৎপাদনশীল অংশীদারি গড়ে তুলতে ২২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
কৃষক, কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির মাধ্যমে উৎপাদন ও বাজারব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
দ্বিতীয় উপাদানে কৃষিতে সরকারি সহায়তা আরো কার্যকর করতে ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ খাতে প্রস্তাবিত ব্যয় ৭৫ মিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে কৃষিসংশ্লিষ্ট সরকারি সেবা ও সহায়তা ব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
তৃতীয় উপাদানে খাদ্য নিরাপত্তা ও পণ্যের উৎপাদন থেকে বাজার পর্যন্ত অনুসরণযোগ্যতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। এ খাতে প্রস্তাবিত ব্যয় ৩০ মিলিয়ন ডলার। খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পণ্যের উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো হবে এর উদ্দেশ্য।
চতুর্থ উপাদানে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে ২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই চার উপাদানে প্রস্তাবিত মোট ব্যয় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া প্রস্তাবিত প্রকল্পটির দ্বিতীয় ধাপে ৩০০ মিলিয়ন ডলার, তৃতীয় ধাপে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রস্তাবিত বিএপি প্রকল্পে উৎপাদনশীল অংশীদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় কৃষক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলার সুযোগ থাকবে।
