শনিবার ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষার তাগিদ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি বিএনপি সব সময় জনগণের ভোট ও ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাসী: মীর শাহে আলম প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটের যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় তদন্তে কমিটি গঠন রোববার ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করেছে অবরোধকারীরা এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য, তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে ১ মাসের মধ্যে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের, বন্ধু দ্বীপকে গ্রেপ্তার ভারত থেকে আমদানি করা চালে ক্যানসার সৃষ্টিকারী আফলাটক্সিনের উপস্থিতি শনাক্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১ লাখ এতিম শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেওয়া হবে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন শতভাগ নির্মোহভাবে করা হয়েছে: মাহদী আমিন
Advertise with us

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষার তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষার তাগিদ

সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে চালকদের সুস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেছেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালকদের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের সময় দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে চালকদের চোখের সুস্থতা ও নিরাপদ গাড়ি চালনায় দৃষ্টিশক্তির গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক সামাজিক উদ্যোগ মিশনরিং বাংলাদেশ। রাজধানীর হোটেল রেনেসাঁ ঢাকার গুলশানে প্রতিষ্ঠানটির ‘সি টু বি সেফ’ উদ্যোগের আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত অবকাঠামো, কার্যকর আইন প্রয়োগ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চালকদের সুস্বাস্থ্য ও ভালো দৃষ্টিশক্তি নিশ্চিত করাও জরুরি।

তিনি বলেন, একজন চালক যখন গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে বসেন, তখন তার ওপর শত শত যাত্রীর জীবন নির্ভর করে। তাই চালকের দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখা মানে শুধু একজন মানুষকে সাহায্য করা নয়, অসংখ্য যাত্রীর জীবন সুরক্ষিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবন, জননিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। মিশনরিংয়ের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনিও এ উদ্যোগের মাধ্যমে চোখ পরীক্ষা করিয়েছেন এবং চশমা পেয়েছেন।

তিনি বলেন, চালকদের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের সময় দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন মেনে চলা, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থাও করতে হবে। নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সরকার, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে মিশনরিংয়ের কার্যক্রম, লক্ষ্য ও প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া নিরাপদে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে ভালো দৃষ্টিশক্তির গুরুত্ব নিয়ে বিশেষ আলোচনা এবং ‘প্রমোটিং রোড সেফটি থ্রু বেটার ভিশন’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন মিশনরিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিশা মাহজাবিন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির খান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মশিউর রহমান। আলোচনা সঞ্চালনা করেন মিশনরিংয়ের প্রকল্প পরিচালক শাহরাজ জলিল।

মিশনরিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিশা মাহজাবিন বলেন, বাংলাদেশে দুই কোটির বেশি মানুষ প্রয়োজনীয় চশমার অভাবে দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছেন, যাদের একটি বড় অংশ চালক। দৃষ্টিশক্তির সমস্যা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম ঝুঁকির কারণ। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চশমা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি জানান, ২০০৬ সাল থেকে মিশনরিং বাংলাদেশে কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৫০ লাখ মানুষের কাছে রিডিং গ্লাস পৌঁছে দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য শুধু মানুষের দৃষ্টিশক্তির উন্নয়ন নয়, চালকদের চোখের সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের সড়কগুলো আরও নিরাপদ করে তোলা।

মিশনরিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩০ হাজারের বেশি চালক ও পরিবহনশ্রমিকের চোখ পরীক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি যাদের চশমা প্রয়োজন, এমন ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে চশমা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ‘সি টু বি সেফ’ কর্মসূচির আওতায় দুই বছরের মধ্যে ৫০ হাজার বাস ও ট্রাকচালকের চোখ পরীক্ষা এবং ৩০ হাজার চশমা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চালকদের দৃষ্টিজনিত সমস্যার কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংগঠন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের চোখের স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়