রবিবার ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
কিছুক্ষণ পরই শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়, আদালতে আসামিরা আধা ঘণ্টা পর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু ঢাকা মহানগরকে বাসযোগ্য মনে হয় না ‘মাস্টার সাহেব, আপনি আমার জন্য চোখের জল ফেলেছেন, প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব’ বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ২ বিমানবন্দরে আগুন: তদন্তে কমিটি,সকালেই প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও পদ্মায় ডুবে গেলো বাস সরকারি বাসে বেসরকারি থাবা, পকেট ভরছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
Advertise with us

আটকেপড়া বাংলাদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার অনুম‌তি ইরানের

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১১০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

আটকেপড়া বাংলাদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার অনুম‌তি ইরানের

হরমুজ প্রণালি দি‌য়ে আটকেপড়া বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজ পার হওয়ার বিষয়ে অনুমতি দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল। বুধবার (১ এপ্রিল) মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে ঢাকায় ইরানের দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ছয়টি জাহাজের ব্যাপারে আমরা তেহরানকে জানিয়েছি। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল এই জাহাজগুলোকে সহায়তা করার অনুমোদন দিয়েছে। জাহাজগুলোর স্পেসিফিকেশন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আমাদের কাছে না আসার কারণে আমরা শনাক্ত করতে পারিনি।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে জাহাজগুলোর স্পেসিফিকেশন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দিতে বলেছিলাম। সেগুলো গত সপ্তাহে আমরা পেয়েছি, এটা নিয়ে কাজ চলছে। বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। এ ব্যাপারে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

জলিল রহীমি ব‌লেন, এখানে পেট্রোল পাম্পে যে দীর্ঘ লাইন, এগুলো সচিত্র রিপোর্ট আমরা তেহরানে দিয়েছি এবং বলেছি, আমাদের এখানকার ভাই, আমাদের বন্ধুরা সমস্যায় আছে। তাদের যেন কোনো ধরনের সমস্যা না হয়। সব ধরনের সহযোগিতা যেন করা হয়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ আমাদের বন্ধু এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আমাদের সঙ্গে। বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে রয়েছে। আমাদের কাছে বাংলাদেশ সরকার সহায়তা চেয়েছে, এই ছয়টি জাহাজ যাতে নিরাপদে আসতে পারে। আমরা জানিয়েছি, এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে। এই অঞ্চলে আমাদের মুসলিম ভাই যারা আছে, তারা বিন্দুমাত্র কষ্ট করুক— আমরা যতদিন আছি, এটা হতে দেব না। তারপরও যদি কোনো অসুবিধা হয়ে যায়, একটি যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে, আমরা আশা করি এ দেশের জনগণ সেটা অনুধাবন করবে।

যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালি নিয়মগুলোর অবশ্যই পরিবর্তন হবে জানিয়ে জলিল রহীমি বলেন, ইনোসেন্স প্যাসেজের নিয়ম অনুসারে কোনো ধরনের জাহাজ ইরানের অনুমতি ছাড়া এই প্যাসেজ দিয়ে যেতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের সংসদ এবং সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। আমরা অবশ্যই হরমুজ প্রণালিতে আমাদের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করব।

তিনি বলেন, এই যুদ্ধটা কেবল আমাদের বিরুদ্ধে নয়, এটা আসলে ইসলামী সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং পুরো মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে একটা যুদ্ধ। আমরা সম্প্রতি ১৮০ জনের বেশি বাংলাদেশি যারা ইরানে ছিলেন, তাদের নিরাপদে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছি। তাদের মধ্যে অনেকেই ভিসা ও পাসপোর্ট ছাড়াই ইরানে অনুপ্রবেশ করেছিল।

রাষ্ট্রদূত জানান, এসব বাংলাদেশি যারা অবৈধভাবে ছিল, তাদের গ্রেপ্তার না করে, কোনো হয়রানি না করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে, নামমাত্র জরিমানা করে আমরা তাদের নিরাপদে দেশের ফেরার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

তিনি জানান, ইরানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন। তবে এই যুদ্ধের ব্যাপারে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত যে বিবৃতি দিয়েছে, সেটা নিয়ে আমাদের কষ্টের জায়গা আছে।

যুক্তরাষ্ট্র ১৫টি শর্তসহ ইরানকে একটি প্রস্তাব দিয়েছে জানিয়ে জলিল রহীমি বলেন, আসলে এটা ছিল তাদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়। যুদ্ধের মাধ্যমে তারা যা অর্জন করতে পারেনি, এভাবে তারা অর্জন করতে চাচ্ছে। আমেরিকার সঙ্গে আমাদের কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। তাদের ১৫টি শর্তের ব্যাপারে আমরা কোনো জবাব দেইনি।

তি‌নি ব‌লেন, মুসলিম রাষ্ট্র যেমন তুরস্ক, মিশর বা পাকিস্তানকে আমরা এ কথা বলেছি, ইরান কখনোই যুদ্ধের পক্ষে নয়, যুদ্ধ চায় না। তবে ইরান এমনভাবে যুদ্ধ শেষ করতে চায়, যাতে পুরো অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ইরানের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

তি‌নি আরও ব‌লেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমেরিকা এবং ইসরায়েলের অস্ত্রের জোর থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা আক্রমণ করে। যখন অস্ত্রের ঘাটতি হয়, তখন তারা শান্তির কথা বলে। এটা হতে পারে না— তাদের বিপদের সময় তারা যুদ্ধ বন্ধের কথা বলবে আর আমাদের মেনে নিতে হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়