
নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি শেরপুরের কামারেরচরের তিনটি চরে। সড়ক এবং ব্রিজের অভাবে কৃষকরা পান না ফসলের ন্যায্যমূল্য, ফলে পরিবর্তন হয় না তাদের ভাগ্যের চাকা।
শেরপুর শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরত্বের কামারেরচরে কৃষির স্বর্গরাজ্য পয়স্তিরচর, গোয়ালপাড়া এবং ৬নং চর। মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার উঁচু সড়ক ও দশানী নদীতে তিনটি সেতুর অভাবে দুর্গম হয়ে পড়েছে গ্রামগুলো। কাঁচা সড়ক হয়ে আটটি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।
জানা যায়, এ চরাঞ্চলে ধান, গম, গোল আলু, মিষ্টি আলু, ভুট্টা, মরিচ, সূর্যমুখী, বেগুন, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ হয়। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় প্রায় অর্ধেক দামে পণ্য বিক্রি করতে হয় তাদের।
কৃষক আব্বাস উদ্দিন মুন্সি বলেন, আমরা ধান আবাদ করি ডিজেল তেলে সেচ দিয়ে। অনেক কষ্ট করে আবাদ করতে হয়। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় ধান বাজারের চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়। আর শ্রমিক দিয়ে কামারেরচর বাজারে নিয়ে গেলে অনেক খরচ হয়।
আরেক কৃষক ছামিদুল হক বলেন, আমরা বেগুন, টমেটো, কাঁচামরিচ, শসা, ধনিয়া, পেঁয়াজ, রসুনসহ নানান সবজি আবাদ করি। চরের মাটিতে এসব সবজির ব্যাপক ফলন হয়। কিন্তু সঠিক বাজার মূল্য পাই না। এর কারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকা। যদি সড়ক ও দশানি নদীতে সেতু থাকতো তাহলে এই চর সমৃদ্ধ ইকোনমিক জোন হিসেবে পরিচিত পেত।
শেরপুর সম্মিলিত নাগরিক সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম দেওয়ান বলেন, ‘দশানী নদী হয়ে পয়িস্তির চর, গোয়ালপাড়া এবং পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। যদি এই দশানী নদীর তিনটি স্থানে সেতু ও কামারের চর বাজার পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হয় তাহলে ৫৪ বছরের দুঃখ লাঘব হবে।’
কামারের চর উন্নয়ন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক কামরুল হাসান বলেন, ‘সম্প্রতি শেরপুরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ সড়ক-সেতু নির্মাণের দাবিতে দশানী নদীর পাড়ে মানববন্ধন করেছে। এসড়ক হয়ে প্রায় ১৫ হাজারের মতো শিক্ষার্থীও শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালি আর বর্ষায় কাদা মাড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায়। রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স আনা যায় না, আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঠিকমতো পৌঁছাতে না পারায় এখানে মাদক সহজলভ্য হয়ে গেছে। অন্যান্য অপরাধীরাও এই বৃহৎ চরাঞ্চলকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পছন্দ করে। একটি সড়ক আর দশানী নদীর তিনটি পয়েন্টে সেতু হলেই পালটে যাবে চরের চিত্র। খুলে যাবে কৃষকদের ভাগ্যের চাকা।’
এদিকে এলজিইডির শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কামারের চরে দশানী নদীতে সেতুর জন্য অনেকবার জায়গা পরিদর্শন করা হয়েছে। আশা করি এবার দশানী নদীতে ব্রিজ নির্মাণ হবে। পাশাপাশি সড়কও নির্মাণ করা হবে।
শেরপুর-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘কামারেরচরসহ পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার ইসলামপুর ও মেলান্দহ উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। এখানকার জমিতে সৃষ্টিকর্তা বিশেষ গুণাগুণ দিয়েছেন, কারণ কৃষির জন্য এ অঞ্চল অত্যন্ত সুবিধাজনক। ফসলের বাম্পার ফলন হয় এখানে। কেবল সেতু আর সড়কেই বদলে যাবে এখানকার কৃষকদের ভাগ্য। আশা করছি, দ্রুতই সড়ক ও সেতু নির্মাণ হবে।’
