
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করবেন কি না, তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই বেশ অনিশ্চয়তায় ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালি কখনও বন্ধ, কখনও খোলা—এই খবর ছড়িয়েছে হঠাৎ হঠাৎ। ইরানের জাহাজ আটক নিয়েও পাল্টা-পাল্টি অভিযোগে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এসব ঘটনা এক পাশে রেখে আকস্মিকভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সাথে বৈঠকে বসেন এবং একটি বড় সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হন। ইরানকে নিয়ে এরপর কী করা হবে, সেই বিষয়েই ছিল বৈঠকটি।
ট্রাম্পের দেওয়া যুদ্ধবিরতির সময়সীমা প্রায় শেষ হয়ে আসছিল এবং পরবর্তী দফা আলোচনার জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তানে নির্ধারিত যাত্রার আগে এয়ার ফোর্স টু বিমানটি জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের টারম্যাকে অপেক্ষা করছিল। কিন্তু প্রশাসন একটি উভয়সংকটের মুখে পড়ে—ইরানিদের কাছ থেকে কার্যত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এর আগের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে চুক্তির কিছু সাধারণ শর্তের একটি তালিকা পাঠিয়েছিল এবং পরবর্তী দফা আলোচনার আগে সম্মতি চেয়েছিল। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় কয়েক দিন কেটে যায়, যা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরিকল্পিত মুখোমুখি আলোচনার জন্য পাকিস্তানে গিয়ে ভ্যান্স ও অন্যরা কতটা সাফল্য অর্জন করতে পারবেন—তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসে বৈঠকের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এবং সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। তখনও ইরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া আসেনি।
সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা—ইরানের বর্তমান নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ বিভেদই প্রধান বাধা। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও মজুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে বলেও মনে করছে ওয়াশিংটন।
এমন অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এবার কোনো নির্দিষ্ট শেষ তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানি নেতৃত্বকে বিভক্ত বলে উল্লেখ করে বলেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই অগ্রসর হতে চান।
ইরান প্রকাশ্যে জানিয়েছে, নতুন আলোচনায় বসার আগে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে। তবে ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, “চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি খোলা হবে না।”
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানও সক্রিয় ভূমিকা রাখে। দেশটির কর্মকর্তারা উভয় পক্ষকে আলোচনায় ফেরাতে চেষ্টা চালান এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য চাপ দেন।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান জানানো হয়। আলোচক প্রতিনিধি মাহদি মোহাম্মদী বলেন, “পরাজিত পক্ষ শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। অবরোধ চালিয়ে যাওয়া বোমাবর্ষণের মতোই এবং এর সামরিক জবাব দিতে হবে।”
ট্রাম্প প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, সময় বাড়ানো হলে ইরান অভ্যন্তরীণভাবে একটি অবস্থানে পৌঁছাতে পারে এবং আলোচনার পথ খুলতে পারে। তবে অন্যদিকে আশঙ্কাও রয়েছে—ইরান সময়ক্ষেপণ কৌশল নিতে পারে।
আলোচনায় এখনো বড় কয়েকটি বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, মজুদের ভবিষ্যৎ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষ কতটা নমনীয় হয় তার ওপরই নির্ভর করছে চূড়ান্ত চুক্তির ভবিষ্যৎ। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি আগের যেকোনো চুক্তির চেয়ে “উন্নত ও শক্তিশালী সমাধান” চান।
কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প যুদ্ধ বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি মন্তব্য না করে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
