
নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ০২ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বৃষ্টিই কি অঙ্কটা বদলে দিল? উত্তরটা পেতে আজকের সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে উপায় নেই। গত ২৭ এপ্রিল বছরের প্রথম টি–টুয়েন্টি সিরিজটা বাংলাদেশ শুরু করেছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মনে রাখার মতো এক জয় দিয়ে। চট্টগ্রামে দুই দিন পরের দ্বিতীয় টি–টুয়েন্টিটা তাই হয়ে গিয়েছিল সিরিজ জয়ের হাতছানির।
কিন্তু বৃষ্টির দাপট সেদিন এতই তীব্র ছিল যে বুধবারের সেই ম্যাচের টসও হয়নি। মিরপুরে আজ তৃতীয় ও শেষ টি–টুয়েন্টিটা তাই একদিকে বাংলাদেশের জন্য সিরিজ জয়ের সুযোগের, আরেক দিকে নিউজিল্যান্ডের জন্য সিরিজে সমতা আনার।
আগের ম্যাচ জিতে সিরিজটা নিশ্চিত করা গেলে সেরা একাদশের বাইরের ক্রিকেটারদের পরখ করে দেখতে পারত বাংলাদেশ। এখন সেই সুযোগ কতটা নেওয়া যাবে, তা নিয়ে একটা সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সিরিজ শুরুর আগেই অবশ্য অধিনায়ক লিটন দাস প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছিলেন, দুই নতুন মুখ আবদুল গাফফার আর রিপন মণ্ডলকে ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতে চান। রিপন প্রথম টি–টুয়েন্টিতে সুযোগ পেলেও এখনো অভিষেক হয়নি গাফফারের।
এমনিতেই মোস্তাফিজুর রহমান–তাসকিন আহমেদরা না থাকায় ‘দুর্বল’ হয়ে পড়া পেস বোলিং বিভাগে গাফফারকে সুযোগ করে দিতে হলে ‘সাহসী’ই হতে হবে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টকে। অবশ্য দ্বিতীয় ম্যাচের মতো শেষটাও বৃষ্টিতে ভেসে যায় কি না, সে শঙ্কাও তো আছেই।
গতকাল সকালে ঢাকায় অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরেছে। বৃষ্টি–বাধার পর বাংলাদেশ অবশ্য মূল মাঠেই অনুশীলন করেছে। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিকেলে দেখা মিলেছিল রোদেরও। তবে আবহাওয়ার পূর্বভাসে আজ সারা দিনও বৃষ্টির সম্ভাবনা জোরালো।
শেষ পর্যন্ত যদি ম্যাচটা মাঠে গড়ায় আর বাংলাদেশ জিততে পারে, তাহলে তা বাংলাদেশের জন্য একটা বিশেষই হয়ে থাকবে। ২০২১ সালের পর আরও একবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জেতার স্বাদ পাবে তারা। এ ছাড়া একই সফরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ভিন্ন সংস্করণের সিরিজ জেতার প্রথম ঘটনাও হবে এটি।
ম্যাচের আগের দিন দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা শামীম হোসেনও জানালেন তেমন প্রত্যাশার কথাই, ‘আমাদের ভালো একটা সুযোগ আছে সিরিজ জেতার। আমরা চাইব ম্যাচটা জেতার জন্য খেলতে।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজ শুরুর আগেও বাংলাদেশের জন্য বড় দুশ্চিন্তার জায়গা ছিল মিডল অর্ডার ব্যাটিং। পারভেজ হোসেনকে তাই ওপেনিং থেকে সরিয়ে চার নম্বরে পাঠানো হয়, শামীমও অফ ফর্মে বাদ পড়েছিলেন বিশ্বকাপের আগের সিরিজে, হৃদয়ের ওয়ানডে ফর্মটা দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছিল টি–টুয়েন্টিতেও।
তবে টপ অর্ডারদের ব্যর্থতার পর এই তিনজনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ভর করেই প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। শামীম বলছেন এমন চাওয়া থাকে দলেরও, ‘টি–টুয়েন্টি এভাবেই খেলা উচিত। তা না হলে আমরা বড় ম্যাচগুলো জিততে পারব না।’
বড় ম্যাচ জয়ের শুরুটা বাংলাদেশ করেছিল গত বছরই। টানা চার সিরিজ জিতেছিল প্রথমবারের মতো। মাঝে শুধু গত নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজটাই জিততে পারেনি তারা। না হলে নিজেদের রেকর্ডটা এত দিনে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে।
তবু আজ একটা রেকর্ডে নিজের নামটা সবার ওপরে তোলার সুযোগ থাকছে অধিনায়ক লিটন দাসের সামনে। ম্যাচটা জিতলে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহকে টপকে অধিনায়ক হিসেবে টি–টুয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়বেন তিনি।
নিউজিল্যান্ড অবশ্য সে জন্য তৈরিই আছে। কাল দলের প্রতিনিধি হয়ে ডিন ফক্সক্রপট বলেছেন, ‘আমরা দল হিসেবে চেষ্টা করেছি, নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার। আমরা জানি, কোন কোন বিষয়ে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে।’ মিরপুরের চেনা আঙিনায় তাঁদের নিশ্চয়ই সেই সুযোগ দিতে চাইবে না বাংলাদেশ!
