বৃহস্পতিবার ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে মালয়েশিয়া কর্মী পাঠানো শুরু হতে পারে: নুরুল হক নূর ২ লাখ ৪৫ হাজার যুবকের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেবে কেয়ার বাংলাদেশ পাঁচ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ভোট গণনা ৮৪.৫ শতাংশ শেষ, কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী? দলীয় অন্তর্কোন্দলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব না: না‌হিদ ইসলাম স্বাস্থ্যখাতে ১৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢাকা-সৌদি রুটে আকাশপথে বড় ধরনের বিপর্যয়, ১৫৩টি ফ্লাইট বাতিল মুন্সীগঞ্জে ঢাকা-মাওয়া সড়কে সাত মাসে ১১১টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত বাংলাদেশে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির মানুষ সহজে স্বাস্থ্যসেবা পেতে, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
Advertise with us

খুলনায় ৪ লাখ কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত, এবার দাম কমবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ০৯ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৫৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

খুলনায় ৪ লাখ কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত, এবার দাম কমবে?

খুলনা বিভাগে এবার কোরবানির পশুর সংকট নেই। চাহিদার তুলনায় পশু উৎপাদন বেশি রয়েছে। ফলে দামও ক্রেতাদের নাগালে থাকছে বলে আশা করা হচ্ছে।

খুলনা বিভাগে এবার কোরবানির জন্য ১০ লাখ ৭৯ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। বিপরীতে ১৪ লাখ ৪৭ হাজার পশু মজুত রয়েছে। বিভাগে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৬০টি পশু উদ্বৃত্ত পশু রয়েছে, যা চাহিদার চেয়ে ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। বরাবরের মতো এ বছরও খুলনা মহানগরীর জোড়াগেট পশুর হাট পরিচালনা করবে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)।

খুলনা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের (ডিওএলএস) পরিচালক ড. গোলাম হায়দার বলেন, এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা ১০ লাখ ৭৯ হাজারটি। পশু মজুত আছে ১৪ লাখ ৪৬ হাজারটি। গত বছর এ বিভাগে কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা ছিল ৮ লাখ ২৯ হাজার।

তিনি বলেন, এখন স্থানীয় পশু দিয়ে কোরবানির শতভাগ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। যেহেতু, চাহিদার তুলনায় মজুত বেশি। তাই দাম কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ঈদুল আজহার আগেই বিভাগের ১০টি জেলা এবং খুলনা শহরের অস্থায়ী পশুর হাটে বিপুল পরিমাণে কোরবানির পশু আনা হবে। ফলে অন্য জেলা থেকে পশু আনার দরকার হবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কোরবানির পশুর মধ্যে রয়েছে ষাঁড় এক লাখ ৩০ হাজার ৪২৭টি, বলদ ৩২ হাজার ২৭টি, বকনা ও গাই ৮২ হাজার ৩০২টি, মহিষ ৪ হাজার ৮৯টি, ছাগল ৮ লাখ ৫১ কাজার ৩৭০টি, ভেড়া ৫১ হাজার ১৭৩টি এবং অন্যান্য ২১৬টি।

রূপসা উপজেলার সামন্তসেনা গ্রামের খামার মালিক সাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে এ বছর পশুর দাম কিছুটা বেশি হবে।

ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষক দিদারুল আলম বলেন, প্রায় এক বছর ধরে শুধু ঘাস, ভুট্টা, গমের ভুসি ও স্থানীয় পশুখাদ্য ব্যবহার করে সাতটি দেশি গরু পালন করছি। পশুগুলোকে সুস্থ এবং ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছি।

লিয়াকত হোসেন নামে আরেক কৃষক তার পারিবারিক পশু পালনের ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন এবং পরে টিপনা গ্রামে তার ভাইদের সঙ্গে আট কাঠা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পশু পালন শুরু করেন। তাদের খামারে এখন গরুর পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি ছাগলও রয়েছে।

খুলনা বিভাগের বেশকিছু জেলায় ইতিমধ্যে গবাদি পশুর হাট বসতে শুরু করেছে, যদিও ব্যবসায়ী ও ইজারাদাররা বলছেন, আরও একসপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে কেনাবেচা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে পশুর হাটের জন্য তিন দফায় টেন্ডার আহ্বান করেও সাড়া পায়নি কেসিসি। সর্বশেষ গত সোমবার চতুর্থবারের মতো টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। খুলনার জোড়াগেটে কোরবানির পশুর হাট নিয়ে তিন দফায় টেন্ডার আহ্বান করা হলেও কোনও ঠিকাদার অংশ নেয়নি। গত বছর কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা করে কেসিসি ২ কোটি ৭ লাখ টাকা রাজস্ব (হাসিল) আয় করেছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোরবানির হাট পরিচালনার জন্য গত ১২ মার্চ প্রথম দফায় টেন্ডারের আহ্বান করে কেসিসি। তখন এ টেন্ডারের বিষয়ে কেউ কোনও সাড়া না দেওয়ায় পরে ৩১ মার্চ ও ৯ এপ্রিল আবারও টেন্ডারের আহ্বান করে। কিন্তু তখনও কেউ সাড়া না দেওয়া পরবর্তীতে আবার ২৩ এপ্রিল পত্রিকায় টেন্ডারের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও ঠিকাদার এ টেন্ডারের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। সোমবার (৪ মে) চতুর্থবারের মতো টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যদি কেউ অংশ না নেয় তাহলে সিটি করপোরেশন নিজে হাট পরিচালনার দায়িত্ব নেবে।

কেসিসির বাজার শাখা কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদার বলেন, কোরবানির পশুর হাটের দর ওঠানো হয়েছে দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা। তিনবার আহ্বান করা হয়েছে। কোনও সাড়া মেলেনি। যদি কোনও ঠিকাদার অংশ না নেয় তাহলে হাট পরিচালনারা দায়িত্ব নেবে সিটি করপোরেশন। গত বছরও টেন্ডার আহ্বান করা হলেও কেউ সাড়া দেয়নি। ফলে কেসিসি দায়িত্ব নিয়ে হাট পরিচালনা করে দুই কোটি সাত লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছিল। গত বছরে হাসিলের পরিমাণ ছিল ৪ শতাংশ। এবারও হাসিলের পরিমাণ একই থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, হাটে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকবে। পশু ও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য রাখা হবে মেডিক্যাল টিম। হাটে এসে কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোর টহল থাকবে। তাছাড়া নকল টাকা প্রতিরোধে থাকবে বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ। একসপ্তাহ আগে থেকে হাট শুরু করতে হবে। ইতিমধ্যে হাট পরিচালনা করার জন্য কেসিসি সচিব (ভারপ্রাপ্ত) রহিমা খাতুন বুশরাকে আহ্বায়ক ও বাজার শাখার কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদারকে সদস্য সচিব করে ৩২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 ১২
৩৪৫৭৮৯
১০১১১১৩৪১৫১৬
১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৯৩০
৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়