বৃহস্পতিবার ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertisement Placeholder

চট্টগ্রামের ২৮ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা: অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

চট্টগ্রামের ২৮ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা: অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই

চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের অপহরণ-নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত এবং চট্টগ্রামের ২৮ সাংবাদিকসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তে সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

১৭ মাস আগে করা এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা হলেও বাদী বলেছেন, পিবিআই তার সঙ্গে কথা না বলে কাজটি করেছে। এবং এর বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেবেন বলে জানিয়েছেন বাদী।

আর তদন্ত কর্মকর্তার অভিযোগ, বাদীকে বিভিন্ন সময়ে নোটিশ দেওয়া হলেও তার কাছ থেকে তথ্য মেলেনি।

২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম জুয়েল দেবের আদালতে মামলার আবেদন করেন হাসিনা মমতাজ (৫৫) এক নারী। হাসিনা মমতাজ নগরীর কোতোয়ালি থানার নজির আহমদ চৌধুরী রোড বাই লেইন চেয়ারম্যান গলির বাসিন্দা সৈয়দ আবুল হাসেমের মেয়ে। সৈয়দ আবুল হাসেম চট্টগ্রাম নগর বিএনপির নেতা ছিলেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা।

মামলার আবেদনে চট্টগ্রামের ২৮ সাংবাদিকসহ মোট ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে জমা দেন।

তিনি গণমাধ্যম কে বলেন, “চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। বাদীকে বিভিন্ন সময়ে নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি মামলার বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। তার বাসায় গেলেও কোনো তথ্য তিনি দেননি।”

এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হলেও তা নিয়ে এখনও শুনানি হয়নি বলে মহানগর হাকিম আদালত থেকে জানা গেছে।

মামলান আবেদনে বাদী ১০ ধরনের অভিযোগ করেন। সেগুলোর মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের অপহরণ-নির্যাতনের মত অভিযোগও রয়েছে। বিচারক শুনানি শেষে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে আদেশ দেন।

এজাহারে বলা হয়েছে হাসিনা মমতাজ চট্টগ্রামের মোহরা ছায়েরা খাতুন কাদেরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অধ্যক্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

হাসিনা মমতাজ গণমাধ্যম কে বলেন, “মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমার সঙ্গে কোনো কথা না বলে এ প্রতিবেদন দিয়েছেন। তিনি বাদীর সাথে কথা না বলে কোন চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে পারেন না।“

নারাজি দেবেন জানিয়ে হাসিনা মমতাজ বলেন, “তদন্ত কর্মকর্তা আমার সাথে যোগাযোগ করেননি।”

মামলার আবেদনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তার মধ্যে ‘বিভ্রান্তিমূলক ও মিথ্যা’ সংবাদ প্রচার, স্বৈরাচারী সরকারের অপকর্ম ও দুর্নীতি ‘ধামাচাপা দেওয়া’, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগ-যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলা-নির্যাতনের ছবি প্রকাশ না করার মত বিষয় রয়েছে।

এমনকি আন্দোলনরত ছাত্রদের অপহরণ করে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে মিথ্যা মামলায় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া, আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে বৈঠক করা, চব্বিশের ৪ অগাস্ট নিউ মার্কেট মোড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আটকে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেওয়া, এরপর সেদিন চেরাগী পাহাড় মোড়ে আসা শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করা, এসব ঘটনার সংবাদ প্রকাশ না করা, গণমাধ্যমের গাড়ি ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের অস্ত্র পৌঁছে দেওয়া, আন্দোলনের সময় অভিযোগকারীকে মারধর ও অপহরণের চেষ্টার মত অভিযোগ করা হয়েছিল।

মামলায় চট্টগ্রামের যে ২৮ সাংবাদিককে আসামি করা হয় তারা হলেন-দৈনিক আজাদীর শুকলাল দাশ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের তৎকালীন ব্যুরো প্রধান রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, সময় টিভির কমল দে, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের অনুপম শীল, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের তৎকালীন সভাপতি তপন চক্রবর্তী, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব কাজী মহসিন, বিএফইউজের নেতা আজহার মাহমুদ, সাংবাদিক রতন কান্তি দেবাশীষ, উজ্জ্বল কান্তি ধর, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মিন্টু চৌধুরী ও উত্তম সেনগুপ্ত, রমেন দাশগুপ্ত, সমকালের মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন, একরামুল হক বুলবুল, ঋত্বিক নয়ন, দৈনিক পূর্বদেশের রাহুল দাশ নয়ন, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সুবল বড়ুয়া, দীপ্ত টিভির রুনা আনসারী, একুশে টেলিভিশনের রফিকুল বাহার, চট্টগ্রাম প্রতিদিনের আয়ান শর্মা, দৈনিক পূর্বকোণের বিশ্বজিৎ রাহা, দৈনিক আজাদীর আমিনুল ইসলাম মুন্না, ডিবিসি টেলিভিশনের মাসুদুল হক, রাশেদ মাহমুদ, আমাদের সময়ের ব্যুরো প্রধান হামিদ উল্যাহ, ভোরের কাগজের সমরেশ বৈদ্য ও সি প্লাস টিভির সৌরভ ভট্টাচার্য্য।

এছাড়া মামলায় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনসহ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন সময়ের কয়েকজন কাউন্সিলরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়।

Facebook Comments Box
আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়