নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রামিসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার ভেতরে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই মামলায় যে প্রধান আসামি তার নাম সম্ভবত সোহেল খান।
স্ত্রীসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৬৪ ধারায় স্টেটমেন্ট দিয়েছেন। আমরা এটুকু অ্যাসিওরেন্স দিতে পারি, আমাদের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে সুষ্ঠু তদন্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হবে।’ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিচারের দায়িত্ব আদালতের বিচারহীনতার যে বিষয়টা সবাই সব সময় বলে থাকে, এটা সর্বক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিচার বিলম্বিত হয়। সে জন্য মানুষ মনে করে হয়তো বিচার পাবে না। কিন্তু এজাতীয় ক্রাইমগুলো আমি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও দেখেছি।
আমি তাদের কৃতিত্ব দিতে চাই, সেই সময়েও এই জাতীয় কয়েকটা ঘটনা হলে হেনিয়াস ক্রাইমের সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে আইনি ব্যবস্থা বিচারিক ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করেছে। এ ক্ষেত্রে আমি এইটুকু অ্যাসিওরেন্স দিতে পারি, সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে একটা দৃষ্টান্তমূলক বিচার সম্পন্ন হবে। সাজার কথা আমি বলতে পারব না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এখন মধ্যযুগে নেই। আমরা আধুনিক যুগে, আইন সংস্কারটা একটা চলমান প্রক্রিয়া।
সমাজের চাহিদা অনুসারে সব আইনকে আপটুডেট করতে হয় এবং যুগোপযোগী করতে হয়। সেগুলো চলমান প্রক্রিয়া। সেগুলো তো আছেই। বিভিন্ন আইনে অবশ্যই আমাদের কিছু কিছু সংশোধন আনতে হবে। সেটা আমরা দেখব। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটাও চিন্তা করতে হয়, খুব সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে আবার অবিচার করা হচ্ছে কি না বা এমন কিছু হয় যে আমরা খুব কঠোরতম আইন প্রয়োগ আইন প্রণয়ন করলাম প্রয়োগের ক্ষেত্রে সেটা আবার মিসইউজ হচ্ছে কি না, অপব্যবহার হচ্ছে কি না—এগুলো সব লক্ষ রাখতে হয়।’
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এখন কোনো ঘটনা ঘটল সে জন্য একটা চটজলদি করে আইন প্রণয়ন করে ফেলা এবং কোনো আদালত সৃষ্টি করে ফেলা এগুলো ইমোশনালি করা যায় না। এটা বৃহত্তর ক্যানভাসে দেখতে হয়। যেমন—মাগুরাতে একটা ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। এটা নিয়ে তোলপাড় হলো এবং এখানে বোধ হয় কিছু আইনি সংশোধন নিয়ে এসে সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে। এটা সময়ের দাবি ছিল। কিন্তু সেটার দীর্ঘমেয়াদে কী হবে না হবে, সে আইনগুলো চিন্তা করতে হয়।
তিনি আরো বলেন, শিশু ধর্ষণের ক্ষেত্রে আদালত প্রতিষ্ঠা করা হলো, একটা ট্রাইব্যুনাল করা হল। দেখা গেলো, সেই একই এখতিয়ার নারী ও শিশু আদালতে দেওয়ার মতো বিধান করা যায়, আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি না করেও। কারণ এখানে রেভিনিউ এক্সপেন্ডিচারের বিষয় আছে। আদালত সেটআপের করার বিষয় আছে, জনবলের বিষয় আছে। তখন দেখা যাবে যে ৬৪ জেলায় আদালত আমরা করলাম। ক্রাইম করলাম, দেখা যাবে মামলার সংখ্যা কোথাও দুইটা কোথাও ১০টা, কোথাও নাই। এগুলো সব বিবেচনায় নিয়ে যেভাবে মানে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। সেভাবে এগুলো আবার করা যায়। কিন্তু ওই সাময়িক সময়ের জন্য জনগণের যে ক্ষোভ সেটাকে মিটানোর জন্য যদি আমরা সব বিষয়ে দ্রুততম আইন প্রণয়ন করি বা আদালত সৃষ্টি করি সেই বিষয়টা আমার মনে হয় সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করণীয় কিছু অপরাধ আছে, সেটা অপরাধ কমানোর জন্য প্রোক্টিভ কাজ করি আমরা। যেমন-মাদকবিরোধী অভিযান চলছে, চাঁদাবাজি সন্ত্রাসীবিরোধী অভিযান চলছে। এটা হলো, অনেকটা প্রোঅক্টিভ, যাতে অপরাধগুলো কম হয়। কিন্তু এই জাতীয় অপরাধগুলো ধর্ষণ হত্যায় এগুলো হচ্ছে সংঘটিত হওয়ার পরে পুলিশের যে অক্টিভিটিস করণীয় সে বিষয়ে আমি বলতে পারি। আমরা দায়িত্বে আসার পর এ পর্যন্ত যতগুলো হেনিয়াস ক্রাইম এই জাতীয় রয়েছে আপনারা কি কেউ একটা ক্রাইমের ক্ষেত্রেও বলতে পারবেন, পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেনি এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে তারা অ্যারেস্ট করতে পারেনি। একটাও নেই। আমার কাছে তালিকা সবগুলো আছে। যদি তার ব্যতয় কিছু হয়ে থাকে আপনারা প্রশ্ন তুলতে পারবেন।