
নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

পবিত্র ঈদুল আজহায় প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ। সড়ক-মহাসড়কে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। যমুনা সেতুতে গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ যানবাহন পারাপার হয়েছে। যানবাহনের চাপ থাকলেও মহাসড়কে এখনো কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি।
রোববার (২৪ মে) দুপুর আড়াইটায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের এলেঙ্গা, রাবনা বাইপাস, নগর জলফৈ ও করটিয়া বাইপাস ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈদ এলেই অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যমুনা সেতুর সংযোগ মহাসড়ক দিয়ে উত্তর অঞ্চলের ২৩ জেলার যানবাহন চলাচল করায় এই অঞ্চলে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
এদিকে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতুর ওপর দিয়ে ৩২ হাজার ৬৪৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯০০ টাকা।
এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ১৬ হাজার ৭৫৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৯ লাখ ৭ হাজার ১৫০ টাকা। পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে ঢাকাগামী ১৫ হাজার ৮৯৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৫০ টাকা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত চাপ সামলাতে এবং দ্রুত টোল আদায়ে মোটরসাইকেলের জন্য দুটি করে মোট ৪টি পৃথক বুথসহ মোট ১৮টি বুথের মাধ্যমে টোল আদায় করা হচ্ছে।
এ ছাড়া, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেতুর দুই প্রান্তে দুইটি রেকার রাখা হয়েছে। সেতুর গোল চত্বরে এলাকায় একটি বেকার রাখা হয়েছে। মানুষের ঈদযাত্রা নিবিঘ্নে করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মানুষ যাতে নিবিঘ্নে তাদের গন্তব্য পৌঁছাতে পারে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শরীফ বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। মানুষের ঈদযাত্রা নিবিঘ্ন করতে আমরা হাইওয়ে পুলিশ দিন-রাত কাজ করছি।
টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, যানজট নিরসনে মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশে জেলা পুলিশের আট শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। এ ছাড়া, ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ পার্কিং ঠেকাতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ মহাসড়কে যানবাহন বিকল হলে বা সড়ক দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দ্রুত সরাতে বিভিন্ন পয়েন্টে সাতটি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ঢুকতে না পারে সে দিকে জেলা পুলিশ তৎপর রয়েছে। আশা করছি সবার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হবে না।
