
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিনে বেশিরভাগ মানুষ রাজধানী ছেড়েছে। অফিস-আদালত পুরোপুরি ছুটি হওয়ায় আগে-ভাগেই ভোগান্তি এড়াতে অনেকে পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজও রাজধানী ছাড়ছে ঘরমুখো মানুষ। রাজধানীর অন্যতম প্রধান দূরপাল্লার বাস টার্মিনাল ও কাউন্টার এলাকা কল্যাণপুরে সকাল থেকেই বাড়িফেরা মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ভাড়া কিছুটা বেশি হলেও যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
সরেজমিনে কল্যাণপুর বাস কাউন্টার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গগামী সাধারণ মানুষের পদচারণায় পরিপূর্ণ কাউন্টারগুলো। হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শাহ ফাতেহ আলী পরিবহন, অরিন ট্রাভেলসসহ বিভিন্ন নামি-দামি বাস কাউন্টারের সামনে টিকিটের জন্য যাত্রীদের সারি দেখা গেছে। কাউন্টারগুলোর পাশাপাশি ফুটপাতে ও ফুটওভার ব্রিজের নিচে অপেক্ষা করছেন যাত্রীরা।
এদিকে, দূরপাল্লার যাত্রা আরামদায়ক করতে ও সড়কে যানজটের ভোগান্তি মাখায় রেখে অনেক যাত্রীই এসি বাসকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। যে কারণে এসব বাসের টিকিটের চাহিদা বাড়ার সুযোগে তুলনামূলক বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন যাত্রী।
কাউন্টারে অপেক্ষায় থাকা গাইবান্ধাগামী যাত্রী সোহেল জানান, ভোগান্তি এড়িয়ে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য অরিন ট্রাভেলসের এসি বাসের টিকিট কেটেছেন। এজন্য তাকে ১ হাজার ২০০ টাকা গুনতে হয়েছে। ঈদের জন্য ভাড়া একটু বেশি বলে জানান তিনি।
ভাড়ার ব্যাপারে কল্যাণপুরের হানিফ বাস কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেস জানান, ঈদের সময় মহাসড়কে যানজট এবং ওয়ান-ওয়ে (একমুখী) যাত্রীর চাপের কারণে ভাড়ার কিছুটা সমন্বয় করতে হয়। তিনি জানান, বর্তমানে কল্যাণপুর থেকে এসি বাসে রংপুর যেতে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকা। আর বগুড়ার যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা। যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় একটু বেশি।
কল্যাণপুরের কাউন্টারগুলোর পাশাপাশি দেখা যায়, বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের নিচে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। ব্যাগ-লাগেজ হাতে নারী, শিশু ও বয়স্করা কাউন্টারের ভেতর এবং বাইরে অপেক্ষা করছেন। আর যাত্রীদের এই ভিড়কে কেন্দ্র করে কাউন্টার এলাকার আশেপাশের হকার এবং ভাসমান দোকানগুলোতেও কেনাকাটার ধুম পড়েছে। ঘড়ি, বেল্ট, সানগ্লাস থেকে শুরু করে ফলমূলের দোকানেও ভিড় করছেন বাড়িফেরা যাত্রীরা।
