সোমবার ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যনিলামে বিক্রির উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যনিলামে বিক্রির উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ১০২টি অব্যবহৃত কনটেইনারের পণ্য অনলাইন নিলামের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। এই উদ্যোগ বন্দরের কনটেইনার জট কমানোর পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আগামী ১৭ জুন দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে এ ই-অকশন।

জানা গেছে, বিভিন্ন কারণে আমদানিকারকদের একটি অংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের পণ্য খালাস করেন না। ফলে এসব কনটেইনার দীর্ঘ সময় ধরে বন্দরে অবস্থান করে মূল্যবান স্থান দখল করে রাখে। এর ফলে বন্দরের ধারণক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং নতুন কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ই-অকশন বা অনলাইন নিলামের জন্য নির্ধারিত কনটেইনারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে রাসায়নিক দ্রব্য, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ, কাগজজাত পণ্য, ফ্রিজার, জেনারেটর, কাপড়, গৃহস্থালি সামগ্রী, ট্রান্সফরমার এবং কোয়ার্টজ পাউডারসহ নানা ধরনের আমদানিকৃত পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে অনলাইন ই-অকশন ব্যবস্থার মাধ্যমে নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এতে আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে অংশ নিতে পারবেন। নিলাম-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও শর্তাবলি কাস্টমসের নির্ধারিত ই-অকশন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বন্দরের ইয়ার্ডে ৯ হাজার ৩১৪ টিইউএসএস নিলামযোগ্য কনটেইনার জমা রয়েছে। নিলামের মাধ্যমে বন্দরের ইয়ার্ড খালি করার জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমসকে বার বার তাগাদা দেওয়া হয় বন্দর থেকে। কিন্তু কিছু নিলাম হলে পরে আবার নিলাম যোগ্য কনটেইনার ইয়ার্ডে এসে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে।

বন্দর কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এসব কনটেইনার দ্রুত অপসারণ করা গেলে বন্দরের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে কনটেইনার ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, পণ্য খালাসের গতি বাড়বে এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সময় ও ব্যয় উভয়ই কমবে। পাশাপাশি নিলাম থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিয়মিত নিলামকারী বা বিডার ইয়াকুব চৌধুরী বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিতভাবে অব্যবহৃত ও অখালাসকৃত পণ্য অপসারণের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যকারিতা আরও উন্নত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমে গতি আসবে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার (নিলাম) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, চলতি বছরের চতুর্থ ই-অকশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী ১৭ জুন। ই-অকশনে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারবেন। বন্দরের ইয়ার্ড খালি করার লক্ষ্যে দ্রুত ই-অকশন দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া পচনশীল পণ্য প্রকাশ্যে অকশন দেওয়া হয়। নিলামের মাধ্যমে কাস্টম হাউসের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা আমাদের লক্ষ্য। অনেক সময় নানা জটিলতায় পণ্য নিলামে তুলতে পারি না। অনেক চালানের মামলা থেকে যায়। সেগুলো মামলা নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তাই দেরি হয় নিলাম করতে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়