সোমবার ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

ময়লার স্তূপে ঢাকছে চট্টগ্রাম নগরীর সড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ময়লার স্তূপে ঢাকছে চট্টগ্রাম নগরীর সড়ক

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে আবর্জনার বিশাল স্তূপ। এসব স্তূপ থেকে ময়লা প্রায়ই সড়কের মাঝখানে চলে আসছে। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী। বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির পানিতে পচা বর্জ্য সড়কে ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হচ্ছে অসহনীয় দুর্গন্ধ। আবর্জনার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। ময়লার স্তূপ এড়িয়ে চলতে গিয়ে অনেক পথচারীকে সড়কের মাঝখানে নামতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

গত বুধবার চট্টগ্রাম নগরের দুই নম্বর গেট এলাকায় গেয়ে দেখা যায়, বহদ্দারহাটমুখী সড়কের পাশে বিশাল ময়লার স্তূপ। ময়লাগুলো সড়কের মাঝখানেও ছড়িয়ে পড়েছে। সামনে এগোতেই দেখা যায়, ময়লাযুক্ত পানিতে মশার উপদ্রব। সেখানে সড়ক দখল করে এলোমেলোভাবে কয়েকটি ডাস্টবিনও রাখা হয়েছে। ময়লার গন্ধে নাক চেপে চলাফেরা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।

নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকার জুবিলী রোডে বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের সামনেও রয়েছে বড় ময়লার স্তূপ। সড়কের পাশে দেয়াল ও টিনশেড দিয়ে ঘেরা থাকলেও ময়লা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে সড়কে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে মানুষকে রাস্তার মাঝ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

একই চিত্র দেখা গেছে নগরের ওয়াসা, পুরান টিঅ্যান্ডটি সড়ক, সিনেমা প্যালেসের সামনে, বউবাজার, হালিশহর নয়াবাজার বিশ্বরোড, রাহাত্তারপুল, আন্দরকিল্লা, লালদীঘি জহুর হকার্স মার্কেট ও ফিরিঙ্গি বাজার এলাকায়। বাসাবাড়ি, হাসপাতাল ও অফিসের ময়লা-আবর্জনা সড়কের ওপর ফেলে রাখা হচ্ছে। কুকুর ও কাকের ঘাঁটাঘাঁটিতে সেগুলো রাস্তার মাঝখানে ছড়িয়ে পড়ছে।

নগরের জুবিলী রোড এলাকায় সড়কের ওপর ময়লা ফেলার সময় এক কিশোরকে কারণ জানতে চাইলে সে বলে, ‘সবাই ফেলে, তাই আমিও ময়লা ফেলছি।’

দুই নম্বর গেট এলাকার মসজিদ গলির বাসিন্দা মো. আবু নাঈম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দুই নম্বর গেট এলাকায় বহদ্দারহাট যাওয়ার মূল সড়কের ওপরেই আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। উচ্ছিষ্ট খাবার ও নানা বর্জ্য ফেলায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতে আবর্জনা রাস্তায় ছড়িয়ে যাচ্ছে।’

কাজীর দেউড়ি জুবিলী রোড এলাকার বাসিন্দা মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘মেয়র সব সময় গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি তৈরির কথা বলেন। অথচ এলাকায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিশাল ময়লার স্তূপ পড়ে আছে। ময়লা সড়কের মাঝখানেও চলে যায়। ময়লার দুর্গন্ধে আমরা অতিষ্ঠ। কিন্তু এসব নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।’

হালিশহর নয়াবাজার এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবী মো. ইমাম আলী বলেন, ‘আগে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে ময়লা পরিষ্কার ও বাসায় বাসায় গিয়ে ডোর টু ডোর ময়লা সংগ্রহ করা হতো। এখন এসব চর্চা নেই। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে না।

নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকার সিএনজিচালক মো. দেলোয়ার বলেন, ‘নগরের অধিকাংশ জায়গায় রাস্তার পাশে ময়লার স্তূপ দেখা যায়। মাস্ক পরে থাকলেও নাক চেপে ধরতে হয়। কিছুদিন আগে দুই নম্বর গেট এলাকায় ময়লা এড়িয়ে চলতে গিয়ে এক ছাত্রী তার গাড়ির সামনে পড়ে গিয়েছিল।’

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, চসিকের ৩ হাজার ২৭০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২৬৯ টন সংগ্রহ করে চসিক। পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও যন্ত্রপাতির সংখ্যা ২২৪টি।

চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদের মুখপাত্র হাসান মারুফ রুমী বলেন, নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা দেখভালের জন্য এখন কোনো কাউন্সিলর নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। নগরবাসী চসিককে ১৭ শতাংশ ট্যাক্স দেয়, যার মধ্যে ৭ শতাংশ ময়লার জন্য এবং ৩ শতাংশ সড়কবাতির জন্য। কিন্তু এর ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। যেখানে সড়কবাতি নেই, সেখানে ময়লা বেশি ফেলা হয়। এগুলো সমাধান জরুরি।

চসিকের উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্ম্মা বলেন, পুরো শহরের ময়লা একসঙ্গে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তাই প্রতিটি ওয়ার্ডে ময়লা রাখার একটা নির্দিষ্ট স্থান করা হয়েছে। আগে তো ময়লা রাখার জায়গাগুলো খোলামেলা ছিল। এখন ইট দিয়ে বেষ্টনী করে দিয়েছি। কিন্তু ময়লা ফেলে রাখা হয় না। দুই নম্বর গেট এলাকার ময়লা রাখার স্থান সরিয়ে আনতে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। তবে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়