সোমবার ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে: প্রধানমন্ত্রী ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই গণতন্ত্র যেন হারিয়ে না যায়: রাষ্ট্রপতি সাভারে পুলিশের এসআই হত্যার ঘটনায় ৫ জন গ্রেপ্তার বিশ্লেষকদের মত: ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার কৌশল হাজতখানায় আসামিদের ‘কেক কাটার ঘটনায়’ ৩ জনকে শোকজ কাপ্তাই হ্রদে ৮ দিন পর বন্ধ করা হলো স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট দিনাজপুরে গোবিন্দপুর সীমান্তে ১৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিলো বিজিবি ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে সরকার গ্রিডের চাপ কমাতে সৌরবিদ্যুৎ: ৬০ লাখ অটোরিকশায় এ শক্তির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন? রাষ্ট্র মালিকানাধীন ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা
Advertise with us

শেষকৃত্য শুরু করেছিল পরিবার,নিখোঁজের ১১ দিন পর জীবিত উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

শেষকৃত্য শুরু করেছিল পরিবার,নিখোঁজের ১১ দিন পর জীবিত উদ্ধার

 

নেপালের প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাজার-হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে একটি চন্দিকা শ্রেষ্ঠার। ভোতেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় ভেসে যায় তার বাড়ি। এরপর টানা আট দিন ধরে ৬৪ বছরের চন্দিকা খুঁজে পরিবার। কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তারা ধরে নেন চন্দিকা আর বেঁচে নেই। এরপর পরিবার কুশ ঘাস দিয়ে তার প্রতীকী মরদেহ তৈরি করে এবং মৃত্যুর আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়।

কাঠমন্ডুর সানো ভারিয়াংয়ে পরিবারের বাড়িতে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলে ১১তম দিনে বদলে যায় সবকিছু। চন্দিকাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে, একই বাড়িতে থাকা চন্দিকার পরিবারের অন্য চার সদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের বেত্রাবতী বাজারে আনন্দ শ্রেষ্ঠার বাড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় চন্দিকাকে উদ্ধার করা হয়। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পরিদর্শক সুমন বিকের নেতৃত্বে এ উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।

জানা গেছে, নুয়াকোটের বিদুর পৌরসভা-১০-এর বাসিন্দা চন্দিকা বন্যার সময় স্বামীর সঙ্গে বাড়িতেই ছিলেন। প্রবল স্রোতে তাদের সাড়ে চারতলা বাড়িটি ভেসে যায়। পরে বাড়িটি ত্রিশূলী নদীর তীরে কোথাও আটকে যায় বলে জানান তার আত্মীয় রমেশ মান শ্রেষ্ঠা।

রমেশ বলেন, ‘আমরা আট দিন ধরে খুঁজেছি। কোথাও না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম।’

চন্দিকার জামাইও দুই-তিন দিন বেত্রাবতী ও ত্রিশূলী নদীর তীর ধরে তাকে খুঁজেছিলেন। কিন্তু পরে ওই এলাকায় প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। আশপাশে মরদেহ পচতে শুরু করায় দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে মাস্ক ছাড়া সেখানে যাওয়া সম্ভব ছিল না। গভীর কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে উদ্ধারকারীরাও কিছু এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি।

অনুসন্ধান ব্যর্থ হওয়ার পর পরিবার আলোচনা করে চন্দিকার শেষকৃত্যের সিদ্ধান্ত নেয়। রমেশ বলেন, ‘আমরা কুশের মরদেহ তৈরি করে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা করার সিদ্ধান্ত নিই।’
উদ্ধারের পর হেলিকপ্টারে করে চন্দিকাকে ত্রিশূলীর নেপাল আর্মির মাইবাল ব্যারাকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে কাঠমান্ডুর ছাউনির আর্মি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকেরা পরিবারকে ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলেছেন। ফলে রমেশ এখনো সরাসরি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি; হাসপাতালের বাইরে থেকে দূর থেকেই তাঁকে দেখার চেষ্টা করছেন।

চন্দিকার নাতিও হাসপাতালে রয়েছে। রমেশ জানান, নানিকে দেখে ছেলেটি অনবরত কাঁদছে এবং ঠিকমতো খাওয়াদাওয়াও করছে না। তার ভাষায়, ‘মনে হচ্ছে, সত্যিই এই পৃথিবীতে ঈশ্বর আছেন।’

নেপালের ভয়াবহ এই বন্যায় ১,৩৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ ৫০০০ মানুষ।

সূত্র: দ্য কাঠমন্ডুপোস্ট/ দ্য স্টেটসম্যান

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়