শনিবার ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

ডিজেলের চাহিদা বেশি, ঘাটতি কম

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৬৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ডিজেলের চাহিদা বেশি, ঘাটতি কম

দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় ডিজেল; ৬২ শতাংশ। দেশে চলমান জ্বালানি সংকটে ডিজেল নিয়ে ভোগান্তি তুলনামূলক কম। অনেক পাম্পে অকটেন ও পেট্রোল না মিললেও ডিজেল বিক্রি করতে দেখা গেছে। অকটেন ও পেট্রোলের তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় ডিজেল সংগ্রহে দুর্ভোগ কম।

ডিজেল বেশি ব্যবহৃত হয় দূরপাল্লার গাড়িতে। বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির নিজস্ব পাম্প অথবা কোনো পাম্পের সঙ্গে চুক্তি থাকায় চাহিদা অনুসারে তারা তেল পাচ্ছে। তবে একসঙ্গে এই তেল মিলছে না। দু-তিনবারে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

ডিজেলের মজুত ক্ষমতা ছয় লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের বার্ষিক বিক্রি ছিল সাড়ে ৪৩ লাখ টন। সেই হিসাবে মাসিক চাহিদা তিন লাখ ৬০ হাজার টন এবং দৈনিক গড় চাহিদা ১২ হাজার টন।
তবে চলতি মাসে ডিজেলের চাহিদা বেড়ে তিন লাখ ৮৪ হাজার ৮৫০ টনে দাঁড়িয়েছে। গত ২১ মার্চ পর্যন্ত দেশে এক লাখ ৫২ হাজার ৫৩৯ টন ডিজেল মজুত ছিল। দৈনিক সরবরাহ করা হচ্ছে ১২ হাজার ৭৭৭ টন।

ডিজেলে লাইন কম
গতকাল বুধবার রাজধানীর মগবাজারে মঈন মোটর ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ। কেবল ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। ফলে এখানে কোনো ধরনের গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেলের ভিড় নেই। আবার তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তায় সিটি ফিলিং স্টেশনে কেবল অকটেন বিক্রি হচ্ছে। গাড়ি ও মোটরসাইকেলের লম্বা লাইন দেখা গেছে।

পাম্পে তন্ময় শিকদার নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীকে বাইক ঠেলতে ঠেলতে লাইনে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। তিনি জানান, কয়েক জায়গায় ঘুরেও তেল পাননি। এখানে আসতে আসতে বাইকের তেল শেষ হয়ে গেছে।

তেজগাঁওয়ের সততা পাম্পে গিয়ে অন্তত দুই কিলোমিটার দীর্ঘ মোটরসাইকেলের লাইন দেখা যায়। সবাই অকটেন বা পেট্রোল নেওয়ার জন্য লাইন ধরেছেন। একটু এগোতেই সাউদার্ন পাম্পে বাস ও গাড়ির ভিড় দেখা যায়। সেখানে কেবল ডিজেল বিক্রি হচ্ছে।

মহাখালীর ক্লিন ফুয়েল ফিলিং স্টেশনে বাইকের লম্বা লাইন দেখা যায়। একটু এগোতেই এসআর এন্টারপ্রাইজ, রয়েল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পেট্রোল কিংবা অকটেন নেই। কেবল ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। দুই কদম এগিয়ে তশোয়া ফিলিং স্টেশনেও শুধু ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। সেখানে কেবল বাসগুলো ডিজেল নিচ্ছে। নীলক্ষেত-নিউমার্কেটের সবকটি তেলের পাম্প বন্ধ দেখা গেছে। নীলক্ষেত মোড়ের পথের বন্ধু ফিলিং স্টেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের উল্টো পাশের পাম্পেও তেল নেই।

সারাদেশের চিত্র
বাগেরহাট সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের কৃষক রোক্সানা চার দিন ঘুরে শেষ পর্যন্ত কৃষি কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত সুপারিশ পত্র এনে পাম্প থেকে তেল নেন। জেলার ২৩টি ফিলিং স্টেশনেই পেট্রোল ও অকটেনের ঘাটতি রয়েছে।

ময়মনসিংহের নান্দাইল চৌরাস্তার হাজি ফিলিং স্টেশনে ডিজেল পেলেও পেট্রোল-অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। শরীয়তপুরে রিজার্ভে জ্বালানি তেল রেখে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি না করার অভিযোগে মেসার্স পাইলট ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শেরপুর সদরের মোমিন সার্ভিস স্টেশনে গিয়ে গতকাল দেখা যায়, হাজারো মানুষ লাইন ধরে অপেক্ষা করছেন পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল নিতে। চকপাঠক এলাকার এনইউ আহম্মেদ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কার্তিক সাহা বলেন, তেল পাচ্ছি অনেক কম। মঙ্গলবার চেয়েছিলাম সাড়ে ২২ হাজার লিটার। দিয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার। তিনি বলেন, আগে প্রতিদিন ৮শ থেকে ৯শ লিটার পেট্রোল বিক্রি করতাম। এখন একদিনেই সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার লিটার বিক্রি হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ১৪টি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে অকটেন নেই বলে নোটিশ সাঁটিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে দু-একটি ফিলিং স্টেশনে ডিজেল দেওয়া হলেও বাকি সব স্টেশন বন্ধ বলে রশি ও বাঁশ দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের ৩৭টি পেট্রোল পাম্প থাকলেও প্রতিদিন তেল দিচ্ছে মাত্র ৪-৫টি পাম্পে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
Advertise with us
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়