
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | ২০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

হামের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বজনদের অভিযোগ আইসিইউ না পেয়ে শিশুটি মারা গেছে।
এর আগে চার দিন ধরে নাটোর সদর হাসপাতালে শিশুটি চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানান নাটোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া। মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটি মারা যায় বলে বলে জানান তিনি।
নিহত কাশফি আক্তার নাটোর সদর উপজেলার বড় হরিশপুরের ঋসি নওগাঁ এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে একমাত্র সন্তানের এমন মৃত্যুতে শোকে কাতর পরিবার ও স্বজনরা।
কাশফির মামা আফতাব উদ্দিন বলেন, “হামের উপসর্গ নিয়ে চার দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসার এক পর্যায়ে অবস্থার অবনতি হলে সোমবার রাতে কাশফিকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়। সেখানে আইসিইউ না পেয়ে সকালে তার মৃত্যু হয়।”
সিভিল সার্জন কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, “নাটোর সদরে আইসিইউ না থাকার কারণে কাশফিকে রাজাশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। তার চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি ছিল কিনা বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
নাটোরের সদ্য সাবেক সিভিল সার্জন মুক্তাদির আরেফিন বলেন, জেলাজুড়ে সোমবার পর্যন্ত ৩৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে; যার মধ্যে শুধু নাটোর সদর হাসপাতালেই ১৪ জন ভর্তি আছে। আক্রান্তদের সবাই শিশু। সদরের ১৪ জন শিশুর মধ্যে আটজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে, আর চিকিৎসাধীন আছে ছয়জন।
হামের প্রার্দুভাব প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের সভা
নাটোরে হামের প্রার্দুভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভা হয়েছে মঙ্গলবার সকাল ১০টায়।
সভায় নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, হামের উপসর্গ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সরকারি হাসপাতালে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হামের উপসর্গ থাকলে শিক্ষার্থীকে স্কুলে না গিয়ে বাড়িতে বিশ্রাম নিতে হবে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা এবং পর্যাপ্ত টিকা মজুদ আছে। কোনো অপপ্রচারে কান না দিয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন কামাল উদ্দিন বলেন, হাম শনাক্তে বিভিন্ন উপজেলা থেকে সন্দেহভাজন ৩৮ জনের নমুনা ঢাকা পাঠানো হয়। এর মধ্যে ১৩ জনের হাম শনাক্ত হয়।
১৩ জনের মধ্যে ছয়জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং বাকি সাতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানান তিনি।
হামের পরীক্ষা করা নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে কামাল উদ্দিন বলেন, “নাটোর-রাজশাহীসহ কোনো জেলাতেই হাম শনাক্ত করা হয় না। আর এটার প্রয়োজনও হয় না। ‘মহামারির’ কারণে এখন আমরা পরীক্ষা করছি। নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠানো হচ্ছে।”
