বৃহস্পতিবার ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

আইনি জটিলতায় জামায়াত জোটের প্রার্থী, কমে যেতে পারে একটি আসন

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

আইনি জটিলতায় জামায়াত জোটের প্রার্থী, কমে যেতে পারে একটি আসন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল গতকাল মঙ্গলবার। এদিন বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এক প্রার্থী।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হতেই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এমনটি হলে জোটের জন্য নির্ধারিত ১৩টি আসনের একটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কোনো চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসরের তিন বছর পার না হলে কেউ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। এই নিয়ম সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা।

জানা যায়, জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপি যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেছেন মাত্র চার মাস আগে (ডিসেম্বর ২০২৫)। অথচ আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী এই সময়সীমা হতে হবে ৩৬ মাস বা তিন বছর।

এ নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে জামায়াত জোট ১৩টি আসনের বিপরীতে ১৩ জন প্রার্থীর তালিকা দিয়েছিল। যদি একজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়, তবে ওই আসনটি সবার জন্য ‘উন্মুক্ত’ হয়ে যাবে।

আর এতে লাভবান হবে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। যেহেতু বর্তমানে সংসদে বিএনপি জোটের আসনসংখ্যা বেশি।

ফলে আসনটি উন্মুক্ত হলে এবং নতুন তফসিলে ভোট হলে বিএনপি জোটের আসনসংখ্যা ৩৬ থেকে বেড়ে ৩৭ হতে পারে। আর এতে জামায়াত জোটের আসন ১৩টি থেকে কমে ১২টিতে নামতে পারে।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টা পার হওয়ার পর জোটের পক্ষ থেকে নুসরাত তাবাসসুম নামে আরো একজনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা রিসিভ কপিতে ১৯ মিনিট বিলম্বের কথা উল্লেখ করেছেন, যা পরবর্তী সময়ে গ্রহণযোগ্য হবে কি না তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

এমন জটিলতা নিয়ে জোট সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘মনোনয়নপত্র বাতিল হবে না বলেই আমরা বিশ্বাস করি।’

এদিকে প্রার্থী মনিরা শারমিন দাবি করেন, কৃষি ব্যাংক একটি বিশেষায়িত ব্যাংক এবং তার পদটি রাষ্ট্রের কোনো লাভজনক পদ ছিল না। এটি সরাসরি নির্বাচন নয়, বরং দল কর্তৃক মনোনয়ন, তাই আইনের এই জায়গাটি অত গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

ইসি কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আরপিওর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আগামীকাল ও পরশু মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়