শনিবার ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

বাড়িওয়ালার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা,যা বললো অভিযুক্ত যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বাড়িওয়ালার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা,যা বললো অভিযুক্ত যুবক

টাকা না দেওয়া বাড়িওয়ালার মেয়েকে (২২) ধর্ষণের পর হত্যা অভিযোগ উঠেছে গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১৯ বছর বয়সি ওই যুবকের দাবি, তিনি হত্যা করতে চাননি, বরং তা এমনি এমনি হয়ে গেছে। তার নাম রাহুল মীনা। ঘটনাটি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এক সাবেক সরকারি কর্মকর্তার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তার বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন রাহুল। সেই আমলাই মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যার পর তিনি দাবি করেন, ‘দিদি যদি বাধা না দিত, টাকা দিয়ে দিত, তাহলে এ কাজ করতাম না।’

অভিযুক্তের দাবি, শুধু টাকার জন্যই তিনি গিয়েছিলেন। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়। কিন্তু তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অনলাইন গেমে আসক্ত তো ছিলেনই, গৃহকর্মীর কাজ করে যে বেতন পেতেন, সেই টাকা যৌনপল্লীতে খরচ করতেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, যখন গৃহকর্মীর কাজে ঢুকেছিলেন সেই সময় থেকেই বাড়ির মালিকের মেয়ের প্রতি তার নজর ছিল। ফলে শুধু টাকা চুরির উদ্দেশ্যেই গিয়েছিলেন কি না, সেই বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রাহুলের দাবির সত্যতা যাচাই করে দেখছেন তারা।

কর্মকর্তারা আরও জানান, ২০ হাজার টাকা বেতন পেতেন রাহুল। সঙ্গে বোনাসও। আট মাস আগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তার পর তিনি নিজের বাড়ি রাজস্থানের আলওয়ারে ফিরে যান। সেখানে গিয়ে অনলাইন গেমে আরও আসক্ত হয়ে পড়েন। সেই গেম খেলতে গিয়ে প্রচুর টাকা ঋণ হয়ে যায়। আর ঋণের টাকা মেটানোর জন্য সরকারি কর্মকর্তার বাড়িতে লুটপাটের পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার আগের রাতে আলওয়ারে এক বন্ধুর সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠানেও যান অভিযুক্ত রাহুল। একটা কাজ আছে বলে বিয়েবাড়ি থেকে আগেই বেরিয়ে আসেন। সেখান থেকে ওই বন্ধুর বাড়িতে আবারও আসেন। সেখানে বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর পর বন্ধুর মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত রাহুল। কেউ যাতে সন্দেহ করতে না পারে, বন্ধুর স্ত্রীর মোবাইল, নিজের মোবাইল ১৩ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। সেই টাকার কিছু অনলাই বেটিংয়ে খরচ করেন। বাকি টাকা নিয়ে ট্যাক্সি ভাড়া করে দিল্লিতে যান। সেখানে ট্যাক্সি ড্রাইভারকে ভাড়া না দিয়েই সাবেক কর্মস্থল সরকারি কর্মকর্তার বাড়িতে চলে যান রাহুল।

পুলিশ জানায়, আগে কাজ করার ফলে বাড়ির সবকিছু জানাশোনা ছিল রাহুলে। বাড়ির মালিকের মেয়ে তার নিজের ঘরে পড়ছিলেন। সেখানে আচমকা ঢুকে টাকা দাবি করেন অভিযুক্ত। কিন্তু তরুণী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাতি দিয়ে আঘাত করলে অচেতন হয়ে পড়েন। এমতাবস্থায় তরুণীকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করে রাহুল।

এরপর নিথর দেহ সিঁড়ি দিয়ে টেনে লকার রাখা নিচের ঘরে নিয়ে যায়। তরুণীর রক্তমাখা আঙুল বায়োমেট্রিক স্ক্যানারে চেপে লকারটি খোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় অভিযুক্ত যুবক। মূলত তরুণী মারা যাওয়া বায়োমেট্রিক স্ক্যানার আঙুলের ছাপ শনাক্ত করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবুও হাল ছাড়েনি ওই যুবক। স্ক্রুড্রাইভার দিয়ে লকার ভেঙে নগদ টাকা ও গয়না চুরি করে, রক্তমাখা প্যান্ট ও জুতো বদলে পালিয়ে যায়। অবশেষে পুলিশের জালে আটকা পড়ে রাহুল।

চার দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দীপিকা থাকারানের আদালতে সোপর্দ করে দিল্লি থানা পুলিশ। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় দোষ স্বীকার করে রাহুল বলেন, আমার অপরাধ হয়ে গেছে ভুল হয়ে গেছে। আমি চুরির উদ্দেশ্যেই গিয়েছিলাম। কিন্তু দিদি আমাকে বাধা দেয়। আমি তাকে প্রদীপ দিয়ে আঘাত করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাকে মারতে চাইনি, এমনি এমনি হয়ে গেছে।’

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়