নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে খাল পুনঃখননের সরকারি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের দুই শতাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, খাল খননের আড়ালে এবং অজুহাতে গাছগুলো রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতা ব্যবহার করে কেটে লোপাট করা হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার গুনবাহা ইউনিয়নের নদীয়ারচাঁদ এলাকার মধুমতি নদী থেকে কামারগ্রাম স্লুইসগেট পর্যন্ত খালের এই দুই কিলোমিটার অংশে খনন কাজ চলমান রয়েছে। ওই এলাকার বন বিভাগের বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১৫ বছর বয়সী প্রায় দুই শতাধিক মেহগনি ও শিশু গাছ গত সপ্তাহের মধ্যে কেটে ফেলা হয়।
জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ফরিদপুর বন বিভাগের উদ্যোগে গুনবহা ইউনিয়নের তালতলা থেকে ভেন্নাতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার গাছ রোপণ করা হয় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায়। দীর্ঘদিনে এসব গাছ খালের দুই পাড়জুড়ে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করে। বর্তমানে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বোয়ালমারীতে তিনটি খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। এর মধ্যে মধুমতি নদী থেকে কামারগ্রাম স্লুইসগেট পর্যন্ত নদীয়ারচাঁদ খাল পুনঃখননের সময় বন বিভাগের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল খননের নামে খালের দক্ষিণ পাড় থেকে কমপক্ষে দুই শতাধিক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার কোনও বিধান নেই। পরে কাটা গাছ বন বিভাগের জিম্মায় জমা দেওয়ার কথা থাকলেও কোনও শর্ত পূরণ করা হয়নি।
দুই শতাধিক গাছ কাটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘খাল কাটার নামে বৃক্ষ নিধন’ শিরোনামে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
এরপর গতকাল সোমবার (১৮ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই এলাকার সামাজিক বনায়ন কমিটির সভাপতি (যিনি নদেরচাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক) হেমায়েত উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কেটে ফেলা গাছের কমপক্ষে ৬০টি গুঁড়ি জব্দ করেন। এ ঘটনার পর হেমায়েত উদ্দিন পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনায় উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) আহ্বায়ক করে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী শনিবার (২৩ মে) এই কমিটির তদন্ত শুরু করার কথা। তদন্তকালে কতগুলো গাছ কাটা হয়েছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।
বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, তার সমর্থকরা গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত। তবে সিরাজুল ইসলাম নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, খাল খনন প্রকল্পের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত থাকলেও গাছ কাটার সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই।
তিনি ফেসবুকের ওই পোস্টে লেখেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশে আমাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’
উপজেলা বন কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, ‘খাল ও খালপাড়ের গাছ পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্ষেত্রে খননকাজের সুবিধার্থে গাছ অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে, তবে নিয়মের বাইরে কোনও কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। গাছ কাটার জন্য বন বিভাগ থেকে কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।’
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধভাবে কোনও গাছ কাটা হলে তাকে শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি গাছ কেউ ব্যক্তিগতভাবে নিতে পারবে না; নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।’
ফরিদপুর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া কোনও গাছ কাটার সুযোগ নেই। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’