নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
দেশের পরিবেশবান্ধব গাড়ির বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার। আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আসছে বাজেটেই রি-কন্ডিশনিং হাইব্রিড, প্লাগইন হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে শুল্ক সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। সংগঠনটির দাবি, এতে একদিকে যেমন ক্রেতার নাগালে আসবে বেড়ে যাওয়া গাড়ির দাম, তেমনি গাড়ির বিক্রি বাড়লে সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়বে। ব্যবসায়ীদের এই যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার। বাংলাদেশও এই খাতে পিছিয়ে থাকতে চায় না। সিজি রানার বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিদ সাকিফ খান বলেন, বাজেটে এমন সহায়তা আশা করছি যাতে দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম তৈরি করা যায়।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট মোটরযানের ৩০ শতাংশ হবে বৈদ্যুতিক গাড়ি। তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে চলতি অর্থবছর পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত বৈদ্যুতিক গাড়ির সংখ্যা ৮০০টিরও কম। যা দেশের মোট গাড়ির শূন্য দশমিক ০১ শতাংশেরও কম।
রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান বলেন, যারা দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন বা অ্যাসেম্বল করবে, তাদের জন্য সরকার যদি শুল্ক সুবিধা দেয়, তাহলে স্থানীয়ভাবে গাড়ি উৎপাদন শুরু হবে এবং বাজারও সম্প্রসারিত হবে।
আগামীর বাস্তবতা বিবেচনায় পরিবেশবান্ধব মোটরযানের জন্য অবকাঠামো প্রস্তুত করার ওপর দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। ধীরে ধীরে হাইব্রিড, সেইসঙ্গে ক্রেতার চাহিদা মিটিয়ে প্লাগইন হাইব্রিডের বাজার বড় করতে পারলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশজুড়ে তৈরি হবে পুরোপুরি বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেয়ার স্টেশন।
বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ রহমান বলেন, হাইব্রিড গাড়িতে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার ফলে রাজস্ব বেড়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে চার্জিং স্টেশন তৈরি হলে ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য একটি উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় আসছে বাজেটে পরিবেশবান্ধব রি-কন্ডিশনিং গাড়ি আমদানিতে শুল্ক সুবিধা চান আমদানিকারকরা। বারভিডার সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ডন বলেন, হাইব্রিড ও পরিবেশবান্ধব গাড়ির শুল্ক কমানোর জন্য এখনই উপযুক্ত সময়।
রি-কন্ডিশনড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার দাবি, ডলারের দাম বাড়ার কারণে গাড়ির দাম অনেক বেড়ে গেছে। শুল্ক কমানো হলে গাড়ির দাম কিছুটা কমে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আসবে। একই সঙ্গে গাড়ির বিক্রি বাড়লে শুল্ক আদায়, নিবন্ধন ফি, নবায়ন ও রোড ট্যাক্স থেকে সরকারের আয়ও বাড়বে। বারভিডার সভাপতি আব্দুল হক বলেন, বর্তমানে গাড়ি আমদানির খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তাই এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত হবে না, যাতে ব্যবসা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অর্থনীতিবিদরাও মনে করছেন, ভবিষ্যতের বাস্তবতা বিবেচনায় পরিবেশবান্ধব রি-কন্ডিশনড গাড়ি আমদানিতে শুল্ক সুবিধা দেয়া প্রয়োজন। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশে গাড়ির ওপর শুল্ক অনেক বেশি। গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন ও সাধারণ মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় এই শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক পর্যায়ে আনার সুযোগ রয়েছে।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশে ১৬ হাজার ৭০০ গাড়ির নিবন্ধন হয়েছিল। তবে দাম বাড়তে থাকায় গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪০০টিতে।