নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালিতে গোলাগুলিতে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ দুইজন হলেন- স্বপন বেপারী (৪০) এবং জিয়াউল হক (৩৫)। তবে ঘটনাস্থলে আশপাশে রক্তপাতের আলামত থাকলেও গুলিবিদ্ধ স্বপনের সন্ধান মিলছে না। পুলিশের ধারণা, গুলিবিদ্ধ হয়ে স্বপন নিহত হয়েছেন।
গুলিবিদ্ধ স্বপন বেপারী কালিদাসখালির সিদ্দিক বেপারীর ছেলে। আর আহত জিয়াউল হক নিচপলাসীর শুকুর আলীর ছেলে। জিয়াউল হক পদ্মা নদীতে মাছ শিকার করে বাড়ি ফিরছিলো। এলাকাবাসীর চিৎকার শুনে এগিয়ে গিয়ে তিনিও গুলিতে আহত হন। জিয়াউলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে গেছে- সোমবার (১৮ মে) রাত ১২ টার দিকে কালিদাসখালিতে চরে একদল ডাকাত নৌকা বা ট্রলার যোগে আসছিল। এই সময় স্বপন নামের এক ব্যক্তি তাদের লক্ষ্য করে টর্চলাইটের আলো ফেলায়। এতে ডাকাতরা ক্ষিপ্ত হয়ে স্বপনকে গুলি ছোড়ে। গুলিতে স্বপন ও জিয়াউল আহত হন। তবে আহত স্বপনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরে রাতের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রক্তাক্ত অবস্থায় পাই পুলিশ। এসময় পুলিশ জানায়, কিছু রক্তের আলামত পাওয়া গেছে।
স্বপনের বাবা সিদ্দিক বেপারী বলেন, রাত ১২টার দিকে দুইটা ট্রলারে ১৫ থেকে ১৬ জন আসেন। এ সময় তারা এলোপাথাড়ি গুলি করতে থাকে। গুলির শব্দে আমার ঘুম ভেঙে যায়। বাড়ির বাইরে এসে দেখি আমাকে তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছে। এসময় তারা বাড়ির সামনে আমার ছেলে স্বপনকে ধরে ফেলে। তাকেও গালাগালির একপর্যায়ে গুলি করে তাদের ট্রলারে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। রাতে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছে।
চক রাজাপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের (কালিদাসখালি) সাবেক মেম্বর শহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে বালুরঘাট রয়েছে। বালুরঘাটকে কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় হামলার ঘটনা ঘটে। গতরাতে আসলে কি ঘটনা ঘটেছিল সেটি এখনো ভালোভাবে জানা যায়নি। তবে স্বপন এবং জিয়াউর নামে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। জিয়াউরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে স্বপনকে পাওয়া যাচ্ছে না।
সিদ্দিক বেপারী আরও বলেন, আমার সামনে গুলিবিদ্ধ আহত স্বপনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সে কোথায় আছে, কেমন আছে, কিভাবে আছে এ বিষয়ে এখনো কেউ জানে না। ঘটনাস্থলে পুলিশের লোকজন আছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আর আহত জিয়াউলকে স্বজনরা নিয়ে গেছে। এটা এলাকার মানুষ দেখেছে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, সোমবার গভীর রাতে ১০ থেকে ১২ দুষ্কৃতকারী হামলা চালিয়ে স্বপনকে গুলিতে হত্যা করে। তারাই ট্রলারে করে স্বপনের লাশ নিয়ে গেছে বলে পুলিশের ধারণা। তার সন্ধানে পুলিশের অভিযান চলছে।তিনি আরও বলেন, রাত থেকে পুলিশ চরাঞ্চলে অভিযানে আছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।