
নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মধ্যপ্রাচ্য নির্ভর শ্রমবাজারে যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি শ্রমিক বিদেশে পাঠানোর সরকারি লক্ষ্য। নতুন পরিস্থিতিতে দ্রুত বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে চাপের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে সংকট কাটিয়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়াতে কাজ করছে সরকার।
করোনা মহামারির পর বৈশ্বিক শ্রমবাজার বড় ধাক্কার মুখে পড়ে। কয়েক বছর ধরে মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শ্রমবাজার বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় শ্রমবাজার আবারও জটিল হয়ে উঠছে।
তবে এত সংকটের মধ্যেও থেমে নেই বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন। নানা বাধা পেরিয়ে অভিবাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন হাজারো শ্রমিক। অভিবাসনপ্রত্যাশী শ্রমিকরা বলছেন, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে অনেকেই বিদেশ যেতে না পেরে ভোগান্তিতে আছেন। সরকারের কাছে তারা এসব সমস্যার সমাধান চান।
সরকারের দাবি, বিশ্বের ১৭৬টি দেশে বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদেশে গেছেন ৯ লাখ ৬৬ হাজার শ্রমিক। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ১১ লাখ ২৬ হাজার ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদেশে যান ১১ লাখ ৮১ হাজার কর্মী। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গেছেন ১০ লাখ ১৫ হাজার শ্রমিক। আর চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বিদেশে গেছেন ৮ লাখ ১৬ হাজার কর্মী। এদের বেশিরভাগই নির্মাণশ্রমিক এবং সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব।
আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি শ্রমিক বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এরই মধ্যে চার ধরনের পেশায় শ্রমিক নেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে কাতার। তবে বন্ধ শ্রমবাজার চালু ও নতুন বাজার খোলার অগ্রগতি কতটুকু; সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সময় সংবাদকে বলেন, নিয়মিত শ্রমবাজারের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা চলছে। কোন খাতে তারা শ্রমিক নিতে আগ্রহী, তা নিয়ে কাজ করছে সরকার। নতুন সরকারের লক্ষ্য একদিকে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বড় শ্রমবাজার তৈরি করা।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অদক্ষ শ্রমিক পাঠিয়ে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। দক্ষ কর্মী তৈরির ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও যুব প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ কর্মীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনও পর্যাপ্ত দক্ষ কর্মী তৈরি করতে পারছে না। ফলে দেশের শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়াকেন্দ্রিক হয়ে আছে। অদক্ষ শ্রমিকের বদলে দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারলে রেমিট্যান্স আয় আরও বাড়ানো সম্ভব হতো।
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই আগামী দিনে এই আয় বাড়াতে দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়ার বিকল্প নেই। এখন দেখার বিষয়, সেই লক্ষ্য পূরণে কতটা সফল হতে পারে রাষ্ট্র।
