সোমবার ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শনিবারের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে পাহাড়ধসের বিভীষিকা, একরাতেই প্রাণ গেল ৯ জনের জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই: প্রধানমন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর থ্রিডি ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ শাহ আমানতে কার্গো ফ্লাইট চালুর উদ্যোগে ভাটা পড়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের ন্যায়বিচার এদেশের মাটিতেই হবে : প্রধানমন্ত্রী বেনাপোল কাস্টম হাউসে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি জুলাই-আগস্টে দেশে রয়েছে বন্যার আশঙ্কা রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনা: দাদা-বাবার ১০ ঘণ্টা পর না ফেরার দেশে চলে গেল বন্ধন রপ্তানি আয়ে লক্ষ্য পূরণ হয়নি,কমেছে আয়
Advertise with us

শাহ আমানতে কার্গো ফ্লাইট চালুর উদ্যোগে ভাটা পড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

শাহ আমানতে কার্গো ফ্লাইট চালুর উদ্যোগে ভাটা পড়েছে

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালুর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তাতে ভাটা পড়েছে। গত জুলাইয়ে কার্গো ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নকাজ শুরু হলেও আশানুরূপঅগ্ৰগতি ছিল না। এর মধ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তা হাওয়ায় মিশে গেছে।

গত বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিল করেছিল ভারত। এরপর থেকে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালুর বিষয়টি আলোচনায় আসে। ভারতীয় স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তৃতীয় কোনও দেশে পণ্য রফতানির জন্য বাংলাদেশকে দেওয়া দীর্ঘদিনের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করে ভারত। গত বছরের ৯ এপ্রিল দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের কথা জানায়।

ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের পর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালুর বিষয়টি আলোচনায় আসে। এমনকি চীনের একটি এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠানও চট্টগ্রামের সঙ্গে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালুর আগ্রহ প্রকাশ করে। তখন থেকেই মূলত শুরু হয় কার্গো ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি। তবে কার্গো ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়ার পর চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নানা সমস্যা উঠে আসে। এরপরও চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারিতে এই কার্যক্রম শুরুর আশা করেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্টরা। তবে তা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহ আমানত বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালুর বিষয়টি গত কয়েক মাস ধরে আলোচনায় নেই। এটি মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এ ছাড়াও কোরিয়ান শিল্প প্রতিষ্ঠান ইয়াং ওয়াং গ্রুপও একসময় সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। তারা কার্গো নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য একটি ইডিএস স্ক্যানার মেশিন কিনে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিল। এ ছাড়া একটি চায়না প্রতিষ্ঠানও চট্টগ্রাম থেকে কার্গো ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু এখন এসব আলোচনায় নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালু করতে হলে দুটি ইডিএস স্ক্যানার স্থাপনের পাশাপাশি কার্গো শেড নির্মাণ এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজ শেষ করতে হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে রফতানি কার্গো মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় নেওয়ার চাহিদা আছে। বর্তমানে ইডিএস স্ক্যানার না থাকায় সরাসরি ইউরোপ-আমেরিকায় পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বিমানবন্দর থেকে শিপমেন্ট করা মালামাল মধ্যপ্রাচ্যে ইডিএস স্ক্যানার রয়েছে, এমন দেশে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা সার্টিফাইড হয়ে ইউরোপে যায়। যা রফতানি প্রক্রিয়ায় জড়িত প্রতিষ্ঠানের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করে। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বিমানবন্দরের কার্গো শাখায় এ সমস্যা নিরসনে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছেন।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ‘চট্টগ্রাম হচ্ছে দেশের মধ্যে একমাত্র বাণিজ্যিক নগরী। অথচ এই নগরের বিমানবন্দরে নেই কার্গো ভিলেজ। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। চট্টগ্রামে ইপিজেড, কেপিজেড, ইয়াং ওয়াং গ্রুপ, মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ অসংখ্য ছোট-বড় উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানা রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি পরিপূর্ণ কার্গো ভিলেজ করা এখন সময়ের দাবি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কার্গো ভিলেজ নিয়ে খুব বেশি তৎপরতা দেখা গিয়েছিল। এখন কী অবস্থায় আছে, তা আমার জানা নেই। আশা করছি চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে বর্তমান বিএনপি সরকার বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের কাজ দ্রুত শেষ করবে।’

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‌‘চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে কার্গো ফ্লাইট চালু অত্যন্ত জরুরি। চট্টগ্রাম দেশে তৈরি পোশাক শিল্পের দ্বিতীয় বৃহত্তম অঞ্চল। এখানকার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও উৎপাদন কেন্দ্র থেকে নিয়মিতভাবে পণ্য আমদানি-রফতানি হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কোনও কার্গো ফ্লাইট না থাকায় রফতানিকারকদের জরুরি পণ্য ঢাকা হয়ে অথবা অন্য দেশের মাধ্যমে পাঠাতে হয়। এতে সময়, খরচ ও ভোগান্তি তিনটিই বেড়ে যায়।’

বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শেডে ২৫০ টন আমদানি এবং ২০ টন রফতানি পণ্যের ধারণক্ষমতা আছে। ২০২২ সাল থেকে বিমানবন্দরে আমদানি কার্গো ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। তবে যাত্রী ফ্লাইটে সীমিত আকারে পণ্য আমদানি-রফতারি করা হচ্ছে। বিমানবন্দরের কার্গো স্টেশনটি অনেকটাই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তবে এখন সপ্তাহে বড় দুটি কার্গো ফ্লাইট এলেও তার পণ্য সহজে হ্যান্ডলিং করা যাবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়