মঙ্গলবার ১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

সারাদেশে ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহের পরিকল্পনা সরকারের: তথ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সারাদেশে ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহের পরিকল্পনা সরকারের: তথ্য উপদেষ্টা

দেশে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করতে বৃহৎ পরিসরে ভ্যাকসিন সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইউনিসেফের মাধ্যমে ১০টি ভিন্ন ধরনের প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ (৯৫ মিলিয়ন) ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সরকারের এ লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইয়াসীন ও তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন। ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা জানান, এই বিশাল পরিমাণ ভ্যাকসিন সংগ্রহের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যেই ইউনিসেফকে ৮৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করেছে।

সংগৃহীতব্য এসব ভ্যাকসিনের মধ্যে এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, ওরাল পোলিও (ওপিভি) ও পেন্টা ভ্যাকসিনসহ ১০টি জীবনরক্ষাকারী প্রতিষেধক রয়েছে।

ভ্যাকসিন সরবরাহের সময়সীমা নিয়ে জাহেদ উর রহমান জানান, মে মাসেই প্রথমে টিকার বড় ধরনের কয়েকটি চালান দেশে এসে পৌঁছেছে। গত ৩ মে ১৫ লাখ ডোজ আইপিভি, ৬ মে আরও ১৫ লাখ ডোজ এমআর ও ৯ লাখ ডোজ টিডি ভ্যাকসিন দেশে আসে। ১০ মে পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন সরকারের হাতে পৌঁছেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৯৫ মিলিয়ন ডোজের পুরো সরবরাহ সম্পন্ন হবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দেশে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। নতুন এই সরবরাহের ফলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস দেশে ভ্যাকসিনের কোনো ঘাটতি হবে না।’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা আরও বলেন, ভ্যাকসিনের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কোল্ড চেইন ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইউনিসেফ প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।

হামের টিকা প্রদানের গুরুত্ব উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এমআর টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, যা ইতোমধ্যেই অর্জিত হয়েছে।

এরপরও কোনো শিশু বাদ পড়ে থাকলে, তাদেরকে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে হামে শিশু মৃত্যুর বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, টিকাদান ও এর মাধ্যমে ইমিউনিটি তৈরিতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়। সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যে কোনো মূল্যে শিশু মৃত্যু রোধে কাজ করে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপদেষ্টা আরও জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মডার্নাইজেশন এন্ড এক্সপানশন অব ইস্টার্ণ রিফাইনারী লিমিটেড (ইআরএল)’ প্রকল্প ২০৩০ সাল পর্যন্ত হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গত ৮ মে থেকে ইআরএল পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া মে মাসের ১১ তারিখ পর্যন্ত দেশে কোনো লোডশেডিং হয়নি।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ২০-৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএ-তে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। তিনি আরও বলেন, ১২টি সেতুর টোল প্লাজায় ২০ মে’র মধ্যে স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়ের জন্য পিওএস মেশিন বসানো হবে।

তিনি বলেন, নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১০-১৬ মে নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। সদরঘাটে লঞ্চে সরাসরি নৌকা থেকে যাত্রী ওঠা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য বসিলা ও শিমুলিয়া থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক বিশেষ সহকারী, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়