নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে। এসময় স্পিকার এবং রাষ্ট্রদূত উভয়ই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। রোববার (১৭ মে) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঐতিহাসিক। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ফ্রান্স বাংলাদেশকে দ্রুত স্বীকৃতি দিয়ে অনন্য বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়েছিল। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হচ্ছে ফ্রান্স।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল অনেক আগেই। এদেশের জনগণ সবসময় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আসছে। তবে দীর্ঘ ষোলো বছর ধরে মাফিয়া শেখ হাসিনার সরকার এদেশের গণতন্ত্রকে চরমভাবে বিপন্ন করেছিল। এদেশের সহস্রাধিক সাধারণ জনগণ গণতন্ত্র ও নিজেদের অধিকার রক্ষায় বারবার আত্মোৎসর্গ করেছেন।
সাক্ষাৎকালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত স্বচ্ছ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনের সফল আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত হয়েছে।
বৈঠকে স্পিকার এবং রাষ্ট্রদূত উভয়ই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও দুই দেশের জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক স্থাপন, আন্তঃসংসদীয় সম্পর্ক জোরদারকরণ, নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার রক্ষা এবং জাতিসংঘের শান্তি মিশনে নিযুক্ত বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা নিয়ে তারা বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।
এ সময় স্পিকার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আগামী অধিবেশনে সভাপতি পদে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য ফ্রেঞ্চ সরকারের আন্তরিক সমর্থন কামনা করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য হাফিজ উদ্দিন আহমদকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে ফরাসী দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।