মঙ্গলবার ১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

আসন্ন ঈদযাত্রায় দেশের চার মহাসড়কে চার সমস্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

আসন্ন ঈদযাত্রায় দেশের চার মহাসড়কে চার সমস্যা

আসন্ন ঈদযাত্রায় দেশের চারটি মহাসড়কে অন্তত চার ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে ঘরমুখী মানুষকে। সড়ক ও সেতুতে বোতলগলা (বটলনেক) পরিস্থিতির কারণে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ পথে যানবাহনের অত্যধিক চাপ তৈরি হতে পারে, ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে ভোগাতে পারে ভাঙাচোরা সড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ পথে জলাবদ্ধতার সমস্যা আর ঢাকা-সিলেট সড়কে ভোগান্তির কারণ হতে পারে অসমাপ্ত নির্মাণকাজ।

এর পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা, সড়কে পশুর হাট, গাড়ি পার্কিংয়ের মতো দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কিছু কারণ যাত্রার সময় দীর্ঘ করতে পারে। যদিও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঈদের আগে টানা তিন দিন ছুটি, শিল্পকারখানা ধাপে ধাপে বন্ধ করার মতো উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবু শেষ সময়ে যাত্রীর চাপে আগের ঈদের মতো এবারও যানজটে ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

সমকালের সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি ও নিজস্ব প্রতিবেদকরা সমস্যাজনক স্থানগুলো চার দিন ধরে ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশে খানাখন্দ, সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার ও অবৈধ স্থাপনা এখনও রয়েছে। গজারিয়ায় মালবাহী যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকা ও সড়কের পাশে বাজার বসায় স্বাভাবিক গতিতে যান চলাচল করতে পারছে না। ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের কোনাবাড়ী ও মৌচাক এলাকায় সড়কের পাশে দোকানপাট ও বাজার, চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় সড়ক সরু হয়ে যাওয়া, টাঙ্গাইলে লক্কড়ঝক্কড় যান চলাচল এবং এলেঙ্গায় ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ চলমান থাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের পাঁচ জায়গায় ঈদের সময় যানজট অনেক বেড়ে যায়। নরসিংদীতে মহাসড়কের জায়গায় জায়গায় খানাখন্দ, অন্তত আট জায়গায় বাস থামানো ও বাজার বসানোয় যানজট হচ্ছে। আখাউড়া স্থলবন্দর নির্মাণকাজ চলায় আশুগঞ্জ থেকে সরাইল পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার যানজট হচ্ছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের তারগাছ, গাছা, বোর্ডবাজারসহ বিভিন্ন অংশ বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। বড় নালা বানিয়েও পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত যানজট হচ্ছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে অন্তত ১৫টি পয়েন্টে মাঝেমধ্যেই যানজট হচ্ছে।

অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, গত বছর ঈদুল ফিতরের আগে টানা পাঁচ দিনের ছুটির কারণে যাত্রীরা ধাপে ধাপে শহর ছাড়ায় ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ কম ছিল। কিন্তু একই বছর ঈদুল আজহার আগে মাত্র দুদিন ছুটি থাকায় তীব্র যানজট হয়েছিল। এ বছর ঈদুল ফিতরের আগে ছুটি ছিল চার দিন। তারপরও কলকারখানায় ছুটির শেষ দিনে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট হয়। ঢাকা থেকে রংপুর যেতে ১৩-১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লেগেছিল, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে পাঁচ ঘণ্টা লাগে। ময়মনসিংহ, চট্টগ্রামের পথেও তিন থেকে চার ঘণ্টার বেশি যানজট হয়েছিল।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। ২৪ মে অফিস শেষে শুরু হবে ছুটি। এ হিসাবে ঈদের আগে তিন দিন সময় পাওয়া যাবে শহর ত্যাগের। হাইওয়ে পুলিশের গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, গত কোরবানির ঈদে মহাসড়কের পাশে ২০০টির বেশি পশুর হাট বসেছিল। এতে যানজট হয়েছিল। আগের বছরগুলোর মতো এবারও সরকার বলছে, মহাসড়কে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদেরই সংশয় রয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৪ কিলোমিটারে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে।

মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা সূত্রে জানা যায়, মহাসড়ক দিয়ে দৈনিক ১৮ থেকে ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন মহাসড়কে ২৬ থেকে ৩০ হাজার যানবাহন চলে। তবে ঈদের সময় যানবাহনের সংখ্যা অর্ধলাখ ছাড়িয়ে যায়। এতে টোল আদায়ের ধীরগতিতে যানজট হয়।

বাসচালকরা জানান, কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড, মদনপুর ও মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় বাস স্টপেজের কারণে যানজটে পড়তে হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণেও যানজট তীব্র হয়।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। মহাসড়কে বিকল হওয়া যানবাহন দ্রুত সরাতে দুটি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, ঈদের আগেই বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট খানাখন্দগুলো মেরামত করা হবে।

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মহাসড়কের পাশে শিমরাইলে টাইগার রিরোলিং মিলের পরিত্যক্ত মাঠে এবারও কোরবানির হাট বসবে। মহাসড়কের এই অংশে সড়ক দখল করে বাজার ও অবৈধ স্থাপনা বসছে। গত ৫ এপ্রিল উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পর আবার অবৈধ স্থাপনা ফিরে এসেছে। সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আহসান উল্ল্যাহ মজুমদার জানান, শিমরাইল, সাইনবোর্ড ও কাঁচপুরে আবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মহাসড়কের গজারিয়া অংশের ১৩ কিলোমিটারে যানজট হতে পারে মালবাহী যানবাহন পার্কিং ও বাজারের কারণে।

ভবেরচর হাইওয়ে থানার ওসি মো. শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ইউটার্ন থেকে উল্টো পথে গাড়ি চলাচলের কারণেই যানজট সৃষ্টি হয়। তিন চাকার যানবাহনগুলো উল্টো পথে চলে। ঈদের সময় এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মহাসড়কের পাশে কয়েকটি পশুর হাট ও খানাখন্দের কারণে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশেও যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।

সওজের প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা শুক্রবার সমকালকে বলেন, মহাসড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। চার-পাঁচ দিনের মধ্যে সড়কের সব সংস্কারকাজ শেষ হবে।

উত্তরবঙ্গের পথে ভোগান্তি হতে পারে

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, কয়েক বছর ধরে ঈদযাত্রায় ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের প্রবেশদ্বার খ্যাত চন্দ্রায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফ্লাইওভার থাকলেও গত রোজার ঈদে এই মোড় পার হতে সাত থেকে আট ঘণ্টা লেগে যায়। মহাসড়কের পাশে বাজার এবং যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের চাপে যানজট হয়। সরেজমিন দেখা যায়, কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচের সড়কে শত শত দোকান। মৌচাক এলাকায় সড়কের পাশে বাজার।

চন্দ্রা ত্রিমোড় ঢাকা ও গাজীপুর থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের প্রবেশপথ। দুটি সড়কের সংযোগস্থলে সড়কে বিভাজক বানানো হয়েছে। যাত্রী ওঠানামার জায়গা বেশি রাখায় যান চলাচলের পথ সরু হয়েছে।

নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি শওগাত উল আলম বলেন, গত ঈদে যেসব কারণে ভোগান্তি হয়েছিল, সেগুলো চিহ্নিত করে এবার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, যমুনা সেতুতে দিনে গড়ে ২০ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। ঈদের সময় এই সংখ্যা ৬০ হাজার পার হয়ে যায়। বিপুলসংখ্যক গাড়ির চাপে টোলপ্লাজা মাঝে মধ্যেই বন্ধ রাখতে হয়। ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়লে যানজট আরও দীর্ঘ হয়।

ট্রাফিক পুলিশের পরির্দশক কাউসার হোসেন বলেন, ‘অতিরিক্ত বৃষ্টি হলেও যানজটের সৃষ্টি হয়। আমরা যানজটের মূল বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে পেরেছি।’

এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের গোলচত্বর পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার মহাসড়কে বিভাজক নেই। এখানে দুই লেনে যান চলাচল করে। এ জন্য রোজার ঈদে এখানে যানজট হয়েছিল। এলেঙ্গায় ফ্লাইওভার নির্মাণকাজে দুই পাশের রাস্তা সরু হয়ে গেছে। টাঙ্গাইল অংশে মির্জাপুরের দেওহাটায় কোরবানির পশুর হাট বসবে। এই হাটের কারণে আগের বছরগুলোতে মহাসড়কে যানজট হয়েছিল।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ১৯০ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীত হলেও যমুনা সেতুর সম্প্রসারণ কাজ শেষ হয়নি। রেললাইন অপসারণের পর সেতুতে গাড়ি চলাচলের পথ সম্প্রসারণে দরপত্র ইতোমধ্যে সরকারি অনুমোদন পেলেও কাজ শুরু হয়নি। তাই সেতুর ওপর পুরোনো ‘বটলনেক’ সংকটে উত্তরের পথে যানজট হতে পারে।

রোজার ঈদে এই সরু পথে বেপরোয়া ওভারটেকিংয়ের কারণে শতাধিক ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এতে দীর্ঘ যানজট হয়। তবে স্বস্তি দেবে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ‘ক্লোভারলিভ ইন্টারচেঞ্জ’। সাউথ এশিয়া সাব-জোনাল কোঅপারেশন ‘সাসেক-২’ প্রকল্পের আওতায় এই ইন্টারচেঞ্জের একটি র‍্যাম্প ২০ মে খুলে দেওয়া হবে।

প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে বগুড়া ও উত্তরাঞ্চলগামী নতুন র‍্যাম্পটি চালু হলে পশুবাহী ট্রাক ও বাসগুলো সিগন্যাল ছাড়াই মোড় পাড় হতে পারবে।

হাটিকুমরুল মোড় ঠিক হলেও মহাসড়কের কাজ এখনও শেষ না হওয়ায় গাইবান্ধায় গত ঈদের মতো যানজট হতে পারে। ‘সাসেক’ প্রকল্পের পরিচালক ড. ওয়ালীউর রহমান বলেন, গোবিন্দগঞ্জ অংশের ৭০ শতাংশসহ মহাসড়কের প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ।

নীলফামারীর যাত্রী ব্যাংক কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মহাসড়ক ভালো হয়েছে। কিন্তু সেতুর মুখে এসে গত ঈদে কয়েক ঘণ্টার দুর্ভোগের স্মৃতি এবারও মনে ভয় ধরাচ্ছে।’

যমুনা সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের (বিবিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, যানজট নিয়ন্ত্রণে বিকল্প সড়ক হিসেবে ভুয়াপুর রুট চালু রাখার পরিকল্পনা আছে। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারহান ইমতিয়াজ সুমেল বলেন, বৃষ্টিতে মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে।

ঢাকা-সিলেট মহসড়কে জায়গায় জায়গায় যানজট

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, মহাসড়কের রূপগঞ্জ অংশের ভুলতা-গাউছিয়া, কাঞ্চন সেতু, রূপসী, বরাবো ও তারাবো এলাকায় প্রতিদিনই যানজট হচ্ছে।

ভূলতা-গাউছিয়ায় প্রতিদিন প্রচুর ক্রেতা ও যানবাহনের সমাগম ঘটে। ঈদে তা বাড়বে। আশপাশের কলকারখানার গাড়ির অবৈধ পার্কিং এবং অটোরিকশা-সিএনজির অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে পুরো সড়কে নৈরাজ্য চলছে। মহাসড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলায় পুরো পথে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে।

রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, অবৈধ পার্কিং, উল্টো পথে যান চলাচল ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদী অংশে মহাসড়কটির সম্প্রসারণ কাজ চালু থাকায় প্রায় পুরো পথেই খানাখন্দ। মাধবদী, শেখেরচর, পাঁচদোনা, সাহেপ্রতাপ, ভেলানগর, ইটাখোলা, মরজাল, বারৈচাসহ বিভিন্ন অংশে মহাসড়কের পাশে বাস স্টপেজ ও বাজারের কারণে যানজট হচ্ছে।

পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক বলেছেন, মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ করা হবে।
ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক ও আশুগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-সিলেট এবং আশুগঞ্জ-আখাউড়া স্থলবন্দর সড়কের নির্মাণকাজ চলায় যানজট হচ্ছে। আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত মহাসড়ক এক সপ্তাহের মধ্যে খুলে দেওয়া হবে। আশুগঞ্জ-আখাউড়া মহাসড়ক প্রকল্পের ব্যবস্থাপক-১ মো. শামীম আহমেদ বলেন, উভয়মুখী যানবাহন চলাচল করলে যানজটের আশঙ্কা নেই।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুর্ভোগ পুরোনো

গাড়ির চাপ বাড়লেই টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত যানজট হচ্ছে। গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, মাঝারি বৃষ্টিতেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের তারগাছ, গাছা, বোর্ডবাজারসহ বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যায়। বাস র‌্যাপিট ট্রানজিট প্রকল্পের আওতায় বড় নালা নির্মাণ করা হলেও সেগুলো ময়লায় অনেকটা বন্ধ। পানি নিষ্কাশন হয় না।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, ‘আগের ঈদের চেয়ে আমরা বেশি প্রস্তুতি নিয়েছি।’

ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে অন্তত ১৫টি পয়েন্টে যানজট হয়। অবৈধ বাজার ও পার্কিংয়ের কারণে সড়কের কোনো কোনো অংশ গলিতে পরিণত হয়েছে। টঙ্গী স্টেশন রোড, চেরাগ আলী, ভোগড়া বাইপাস, কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট হচ্ছে।

মাওনা চৌরাস্তার পর বাঘের বাজার, গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ি, জৈনাবাজার যানজটপ্রবণ এলাকা। গাজীপুর শিল্প-২-এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, ঈদে কারখানাগুলোতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হবে। এতে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়