সোমবার ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শনিবারের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে পাহাড়ধসের বিভীষিকা, একরাতেই প্রাণ গেল ৯ জনের জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই: প্রধানমন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর থ্রিডি ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ শাহ আমানতে কার্গো ফ্লাইট চালুর উদ্যোগে ভাটা পড়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের ন্যায়বিচার এদেশের মাটিতেই হবে : প্রধানমন্ত্রী বেনাপোল কাস্টম হাউসে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি জুলাই-আগস্টে দেশে রয়েছে বন্যার আশঙ্কা রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনা: দাদা-বাবার ১০ ঘণ্টা পর না ফেরার দেশে চলে গেল বন্ধন রপ্তানি আয়ে লক্ষ্য পূরণ হয়নি,কমেছে আয়
Advertise with us

ইস্টার্ন ব্যাংকের আলী রেজার দুর্নীতি: তথ্যের অপেক্ষায় অনুসন্ধান স্থবির

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ইস্টার্ন ব্যাংকের আলী রেজার দুর্নীতি: তথ্যের অপেক্ষায় অনুসন্ধান স্থবির

অনিয়ম-দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) সাবেক এমডি ও সিইও আলী রেজা ইফতেখারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান থেমে আছে। গত বছর শুরু হওয়া অনুসন্ধানের স্বার্থে তথ্য চেয়ে ইবিএল কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েক দফা চিঠি দেয় দুদক। প্রতিবারই সময় চেয়ে পাল্টা চিঠি দেন ইবিএলের কর্মকর্তারা। সর্বশেষ ১০ কর্মদিবস সময় বেঁধে গত মাসে চূড়ান্ত নোটিশ দেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান।

এই নোটিশে বলা হয়, তথ্য পাওয়া না গেলে দায়ী ইবিএলের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই চিঠিতেও কাজ হয়নি। অবশ্য পরে ইবিএল কর্মকর্তারা অতি সামান্য কিছু তথ্য সরবরাহ করেন। বাকি তথ্যের জন্য আবারও তিন মাসের সময় চেয়ে আবেদন করেন। ফলে সেসব তথ্যের অপেক্ষায় থেমে আছে অনসুন্ধান।

ঋণজালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফতের বিরুদ্ধে গত বছর ১৩ এপ্রিল মামলা করে দুদক। সেই মামলার তদন্তের একপর্যায়ে আলী রেজা ইফতেখারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। সেসব তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধেও আলাদা অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে। তিনি অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আলী রেজা ইফতেখারের বিষয়ে ৬ রকমের নথিপত্র চেয়ে ইবিএলের কাছে একটি চিঠি পাঠান। কর্তৃপক্ষ সময় চাইলে তা মঞ্জুর করা হয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে ফের ৩ মে ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে ইস্টার্ন ব্যাংকে থাকা আলী রেজা ইফতেখারের ব্যক্তিগত নথির সত্যায়িত কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের কপি, মোবাইল ও টেলিফোন নম্বরসহ বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বেতন-ভাতার সমুদয় হিসাববিবরণী, তার নামে পরিচালিত সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য (চালু ও বন্ধ) এবং এ যাবৎ তাকে দেওয়া অবসরকালীন সুবিধাসহ সব আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র চাওয়া হয়।

নথি সরবরাহের জন্য ইস্টার্ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ১৭ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে ইস্টার্ন ব্যাংক নথি সরবরাহে ব্যর্থ হয়। এরপর আরও ১০ কর্মদিবস সময় চেয়ে দুদকে আবেদন করে ইস্টার্ন ব্যাংক। সার্বিক বিবেচনায় ৭ কর্মদিবস পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেন দুদকের কর্মকর্তা। সে অনুসারে গত ৩ জুনের মধ্যে সব নথি দুদকে দাখিল করার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যেও নথিপত্র সরবরাহ করা হয়নি। উপরন্তু আরও ৩ মাস সময় চেয়ে ৪ জুন আবেদন করেন ইবিএলের ডিএমডি মাহমুদুন নবী চৌধুরী ও হেড অব এএমএলডি মো. শাহজাহান আলী।

এই আবেদনে ক্ষুব্ধ দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ৮ জুন ইবিএলের এমডিকে কড়া ভাষায় নোটিশ দেন। নোটিশে ১৮ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব নথি সরবরাহের চূড়ান্ত বার্তা দেওয়া হয়। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদক আইনের ১৯(৩) ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করা হয়।

চূড়ান্ত বার্তার পর অতি সামান্য তথ্য সরবরাহ করে ইবিএল কর্তৃপক্ষ। বাকি তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় অনুসন্ধানকাজ আপাতত থেমে আছে।

এদিকে তথ্য সরবরাহে টালবাহানার পরিপ্রেক্ষিতে ইবিএলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইনের ১৯(৩) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন দুদক কর্মকর্তারা। এ জন্য কমিশনের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। কমিশন না থাকায় এখনই সেই ব্যবস্থাও নিতে পারছেন না দুদক কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, আলী রেজা ইফতেখার ২০০৪ সালে ইবিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৬ সালে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন। ২০০৭ সালে তিনি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিযুক্ত হন। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল তিনি অবসরে যান। বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি কোনো ব্যাংকেই কোনো এমডি এত দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। দীর্ঘ সময়ে অন্তত ৫ বার তাকে এমডি পদে পুনঃনিয়োগ দেওয়া হয়।

আলী রেজা ইফতেখার ২০১২ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়ান লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ‘সিইও অব দ্য ইয়ার ২০১২’ পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০২০-২১ এবং ২০১৪-১৫ মেয়াদে দেশের ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়