বৃহস্পতিবার ৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগে যাচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী স্বপ্নের মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এখন হাটবাজার চট্টগ্রাম বোর্ডের বুধবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত ৩ দিনে বিপৎসীমা অতিক্রম করবে তিস্তা, ১২ জেলায় বন্যার আভাস সংসদে নিষ্প্রভ জামায়াত, এমপিদের ভূমিকায় বিব্রত শনিবারের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে পাহাড়ধসের বিভীষিকা, একরাতেই প্রাণ গেল ৯ জনের জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই: প্রধানমন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর থ্রিডি ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ শাহ আমানতে কার্গো ফ্লাইট চালুর উদ্যোগে ভাটা পড়েছে
Advertise with us

নাফাখুম-বাঘের মুখে আটকা ৩৭ পর্যটক

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নাফাখুম-বাঘের মুখে আটকা ৩৭ পর্যটক

টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের থানচির দুর্গম পর্যটন এলাকায় এখনো ৩৭ জন পর্যটক আটকা পড়ে আছেন। তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের উদ্যোগ থাকলেও নদীর প্রবল স্রোত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে পর্যটকরাই আপাতত উদ্ধার না হয়ে পানি কমার অপেক্ষায় রয়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সাধারণ সম্পাদক ক্লেমেন ত্রিপুরা।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিনের টানা অতিভারী বৃষ্টিপাতে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীসহ ছোট-বড় পাহাড়ি ছড়াগুলোর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নাফাখুম, জিন্নাপাড়া, বাঘের মুখসহ কয়েকটি দুর্গম এলাকায় পর্যটকরা আটকা পড়েন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নৌকা ও লাইফ জ্যাকেট পাঠিয়ে তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নদীর তীব্র স্রোত ও উচ্চ পানি প্রবাহের কারণে পর্যটকরা ঝুঁকি নিয়ে ফিরতে রাজি হননি। পানি কমলে তারা ফিরে আসবেন বলে প্রশাসনকে জানিয়েছেন।

থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সাধারণ সম্পাদক ক্লেমেন ত্রিপুরা জানান, জিন্নাপাড়ায় ১৪ জন, বাঘের মুখ এলাকায় গাইডসহ ১৬ জন এবং নাফাখুমে গাইডবিহীন সাতজন পর্যটক আটকা রয়েছেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে ৩৭ জন পর্যটক বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন।

তিনি বলেন, আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। তবে তারা ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নন। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পানি কমার অপেক্ষায় রয়েছেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলা প্রশাসন সোমবার রাত থেকে আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এতে জেলার পর্যটন খাত, বিশেষ করে হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, ১০ জুলাই পর্যন্ত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর অনেক পর্যটক বুকিংয়ের তারিখ পরিবর্তন না করে সরাসরি অগ্রিম বুকিং বাতিল করছেন। এতে জেলার হোটেল ও রিসোর্ট মালিকরা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আজ সকাল ৯টায় তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৫.৭৫ উচ্চতা প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল বলেন, গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

বান্দরবান জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাসান বলেন, ‘আটকে পড়া সব পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে অন্যান্য বাহিনীর সহায়তা নিয়েও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ৬ ও ৭ জুলাই নাফাখুম ও অমিয়াখুমসহ থানচির উজানে বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে ৮৮ জন নিরাপদে থানচি সদরে ফিরেছিলেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়