বৃহস্পতিবার ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটির আট প্রকল্প অনুমোদন ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল বস্ত্র খাতের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই মন্ত্রিসভায় রদবদল প্রসঙ্গে যা বললেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ভাটারায় গ‍্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, শিশুসহ দগ্ধ ৩ নৈশভোজে মিত্রদের কী বার্তা দিতে চান প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন রাশেদ খাঁন দূরত্ব ঘোচানোর উদ্যোগ নাকি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ? ১৯ জুলাই : কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি, ইন্টারনেটহীন দেশে রাজপথ পরিণত হয়েছিল রণক্ষেত্রে
Advertise with us

প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ: শরিকদের প্রত্যাশা মেটানো চ্যালেঞ্জ হবে বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ: শরিকদের প্রত্যাশা মেটানো চ্যালেঞ্জ হবে বিএনপির

আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে পাশে থাকা মিত্র দলগুলোর ক্ষোভ ও দূরত্ব ঘোচাতে নেতাদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলগুলোর নেতারা তাঁদের ক্ষোভের পাশাপাশি প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রধানের কাছে। জানিয়েছেন সরকারের অংশীদার হওয়ার দাবি। প্রধানমন্ত্রী সেগুলো ধৈর্যসহকারে শুনেছেন, আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু মিত্রদের এই বাড়তি প্রত্যাশা সামলানো এবং জোটের মূল শক্তিগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা প্রধানমন্ত্রীর জন্য বেশ কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গত সোমবার রাতে হয়েছে ওই নৈশভোজ এবং আলোচনা। এই আয়োজনে ৪১টি শরিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

নৈশভোজে অংশ নেওয়া একাধিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টানা আন্দোলন-সংগ্রামের পর ক্ষমতার সমীকরণে গিয়ে শরিকদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। যমুনার ওই আয়োজনে নেতারা খোলামেলাভাবেই নিজেদের অবহেলার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

শরিকদের অভিযোগ, দুর্দিনের সঙ্গীদের সরিয়ে রেখে বিএনপির মধ্যে একাকী পথচলার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল, যা রাজনীতিতে ভুল বার্তা দিচ্ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শরিকদের বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে প্রাপ্য মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে চায়। এ লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি দুই মাস পর শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করার বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

নৈশভোজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলাম—আপনাদের এই ডাক কি ফেয়ারওয়েল ডিনার, নাকি নতুন কোনো যাত্রার সূচনা? জবাবে উনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এটি কোনো বিদায়ী আয়োজন নয়, বরং আমাদের ওয়েলকামিং ডিনার। এখান থেকেই নতুন করে পথচলা শুরু।’

সাইফুল হক আরও বলেন, ‘দুর্দিনে যারা পাশে ছিল, তাদের সঙ্গে নিয়ে চলার শৈলীটি বিএনপি নেতৃত্বের রপ্ত করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক ছিলেন এবং তাঁর বক্তব্যে অধিকাংশ দলই আশ্বস্ত হতে পেরেছে বলে মনে করি।’

একই সুর পাওয়া গেছে আরও কয়েকটি দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে। ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে সুদৃঢ় করতে এই আয়োজন বড় ভূমিকা রাখবে। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ মন্তব্য করেন, দীর্ঘদিনের রাজপথের বন্ধুদের মধ্যে যে মান-অভিমান তৈরি হয়েছিল, তার অনেকটাই অবসান ঘটেছে এই পুনর্মিলনীর মাধ্যমে।

তবে এই ইতিবাচক আবহের মধ্যেও রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্র উঠে এসেছে শরিক নেতাদের অনেকের কথায়। কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা শরিকদের জমে থাকা ক্ষোভ-হতাশা কিছুটা প্রশমিত হলেও দুর্দিনের সঙ্গীদের সঠিক মূল্যায়ন, চাটুকারিতা এড়িয়ে চলা এবং শরিকদের প্রত্যাশা সামলে ঐক্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বিএনপির নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে সামনের দিনে। কেননা, নৈশভোজে অংশ নেওয়া কোনো কোনো শরিক দলের চাওয়া-পাওয়া বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি। রাজপথে যাদের উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান বা সাংগঠনিক সামর্থ্য নেই, তারাও অবাস্তব পদ-পদবির আবদার করছেন।

বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। তৎকালীন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে ওই দলের হয়ে তিনিও আমন্ত্রণ পান প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে। তাঁর মতো আরও অনেকে আমন্ত্রণ পান।

সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘শরিকদের সঙ্গে দূরত্বের যে আভাস ছিল, আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সেই দূরত্ব কমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায় সবাই আশ্বস্ত হয়েছেন। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে পথচলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শরিকদের মূল্যায়নের বিষয়েও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।’

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়