শুক্রবার ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
বন্যার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে বাংলাদেশের নেপাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হুইল চেয়ারে করে অধিবেশনে মির্জা আব্বাস, স্বাগতম জানিয়েছেন স্পিকার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দুদকের চিঠি আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের তথ্য চেয়ে বীমা খাতে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ১৪ কোটি টাকার দাবি পরিশোধ করলো আইডিআরএ হয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ রাষ্ট্রপতির ঝিনাইদহে সাড়ে তিন লাখ টাকার অবৈধ ভারতীয় ওষুধসহ দম্পতি গ্রেপ্তার রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার প্রকল্পে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করছে আইএসডিবি মির্জা আব্বাস প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে নিজ অফিসে ২০২৭ সালে ৮ থেকে ১৭ জানুয়ারি দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কওমি-হিফজ শিক্ষার সঙ্গে সরকারের যে কমিটমেন্ট ছিল, তা রাখা হয়নি: জামায়াত আমির
Advertise with us

ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়, কেন ছুটছেন বাংলাদেশিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৪৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়, কেন ছুটছেন বাংলাদেশিরা

দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশিদের জন্য আবারও ট্যুরিস্ট বা পর্যটন ভিসা চালু করেছে ভারত। আর ভিসা চালুর এই ঘোষণা আসতেই দেশের ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ দুই বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেবা চালুর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলোতে।

গত ২৮ জুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে জোরদারের লক্ষ্যে ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর এই ঘোষণা দেন। এরপরই ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার পাঁচটি ভিসা কেন্দ্রের সামনে আবেদনকারীদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের ভিসা কেন্দ্রের বাইরে গত তিন দিন ধরে এক কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

সম্পর্কের টানাপোড়েন বনাম বাস্তবতার টান

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। সে সময় ভিসা কেন্দ্রগুলোতে হামলা ও কর্মীদের হুমকির মুখে ভারত ট্যুরিস্ট ভিসা সম্পূর্ণ স্থগিত করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং ভারত-বিরোধী মনোভাবের কারণে সম্পর্কের আরও অবনতি হয়।

ভারতীয় ভিসা আবেদনে ‘টাইম স্লট’ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তভারতীয় ভিসা আবেদনে ‘টাইম স্লট’ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর ভারতীয় দূতাবাসে উগ্র জনতার চড়াও হওয়ার চেষ্টার মাধ্যমে তা চরমে পৌঁছায়। বর্তমানে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অধীনে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও অবৈধ অনুপ্রবেশ ও তিস্তার পানি বণ্টনের মতো অমীমাংসিত ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে এখনও শীতল ভাব বজায় রয়েছে।

তবে রাজনৈতিক এই টানাপোড়েন সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যকার গভীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতাকে এড়ানো অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাশ্রয়ী চিকিৎসা, বিয়ের কেনাকাটা কিংবা পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় থাকা আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করার জন্য বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির কাছে ভারতই একমাত্র ভরসা।

চিকিৎসার সবচেয়ে বড় ড্রাইভার ভারত

আগে যেখানে প্রতি বছর ২০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি ভারতে যেতেন, ভিসা স্থগিতের পর ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা নেমে আসে মাত্র ৪ লাখ ৭০ হাজারে, যাদের বেশিরভাগই গিয়েছিলেন সীমিত পরিসরে চালু থাকা মেডিকেল ভিসায়।

ভারতীয় ভিসা আবেদন জমার শুরুর দিনে দীর্ঘ লাইনভারতীয় ভিসা আবেদন জমার শুরুর দিনে দীর্ঘ লাইন
আগে ভারতের দেওয়া মোট মেডিকেল ভিসার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই পেতেন বাংলাদেশিরা। সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় বিকল্প হিসেবে অনেকে চীন, থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরে গেলেও মধ্যবিত্তের জন্য তা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ফলে ভাষা বা খাবারের কোনও বাধা না থাকা এবং বাংলাভাষী চিকিৎসকদের সহজলভ্যতার কারণে কলকাতা, চেন্নাই, দিল্লি বা ব্যাঙ্গালুরুর হাসপাতালগুলোই বাংলাদেশিদের প্রধান পছন্দ। মেডিকেল ভিসা পাওয়া কঠিন হওয়ায় অনেকেই এখন ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে ছুটছেন।

ভিসা কেন্দ্রের লাইনে থাকা শফিকুল নামের এক আবেদনকারী জানান, অসুস্থ স্ত্রী ও মায়ের চিকিৎসার জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়াটা তার জন্য জীবনরক্ষাকারী সুযোগের মতো। অন্যদিকে এক সাধারণ আবেদনকারী বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। আমাদের সম্পর্ক সব সময়ই উষ্ণ ছিল, মাঝে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। কিন্তু বন্ধুত্ব বজায় রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

কলকাতার ব্যবসায়ীদের স্বস্তি

ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীরাও। গত দুই বছরে কলকাতার নিউ মার্কেট ও সদর স্ট্রিট সংলগ্ন ‘মিনি বাংলাদেশ’ খ্যাত বাণিজ্যিক এলাকায় বাংলাদেশিদের আগমন কমে যাওয়ায় হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছিল। ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে এই এলাকার ব্যবসায়ীদের প্রায় ১ হাজার কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে আবারও ব্যবসা চাঙ্গা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়