রবিবার ১৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
৫ ব্যাংক একীভূতকরণ : সংখ্যাই বলছে সংকট কতটা গভীর কনে নিয়ে ফেরার পথে মাইক্রোবাস খাদে, শিশুসহ নিহত ২ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়েছে: অর্থমন্ত্রী বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত নদীর ওপর ঝুলে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ৪ ভারতে যাত্রা শুরু প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের, উদ্বোধন করলেন মোদি চট্টগ্রাম বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ স্থগিত চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতি ১৫০ কোটি, ভেসে গেছে মাছ ভেঙেছে সড়ক দুপুরের মধ্যে ৮ জেলায় হতে পারে ঝড় ২৫টি এয়ারক্রাফটে ২০ গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা
Advertise with us

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে সাইক্লোস্পোরা, বাংলাদেশে ঝুঁকি এড়াতে মানুন স্বাস্থ্যবিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে সাইক্লোস্পোরা, বাংলাদেশে ঝুঁকি এড়াতে মানুন স্বাস্থ্যবিধি

দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ানো সাইক্লোস্পোরা নামের পরজীবী যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের সংক্রমণের কারণ হয়ে উঠেছে। দেশটিতে হাজারো মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। বাংলাদেশে বর্তমানে এ ধরনের সংক্রমণ বাড়ার নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না থাকলেও, দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ানো এই পরজীবীর ঝুঁকি এড়াতে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

সাইক্লোস্পোরা অন্ত্রের অসুস্থতা তৈরি করে এবং এর প্রধান উপসর্গ হলো তীব্র ডায়রিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, দেশটির ৩৪টি অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৬৪৫ জন এই সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া ১৪১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

সিডিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে আরও ৫ হাজার ১০০টির বেশি সম্ভাব্য আক্রান্তের তথ্য রয়েছে, যেগুলো এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে সিডিসির খাদ্য, পানি ও পরিবেশবাহিত রোগ বিভাগের উপপরিচালক গ্যেন বিগারস্টাফ বলেন, “আমরা ধারণা করছি, আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকবে। সম্ভবত আগস্টের শেষ পর্যন্ত এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।”

মিশিগানে সর্বোচ্চ সংক্রমণ

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে মিশিগানে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সেখানে ৩ হাজার ৩০৯টি সংক্রমণের ঘটনা এবং ৪৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করার তথ্য পাওয়া গেছে। এক বছরে মিশিগানে এটিই এ রোগে আক্রান্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা। সাধারণত মিশিগানে প্রতি বছর সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণের ঘটনা ৪০ থেকে ৫০টির মধ্যে থাকে।

জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের মহামারিবিদ ক্যাটলিন রিভার্স বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের ক্ষেত্রে এ বছর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের রেকর্ড গড়ার পথে রয়েছে।”

সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২ হাজার ৮০০টি সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে।

সিডিসি জানিয়েছে, মিশিগান, ওহাইও, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া এবং কেনটাকি—এই চার অঙ্গরাজ্যের অন্তত ৪০০টি আক্রান্তের ঘটনা একটি অভিন্ন কিন্তু অজানা উৎসের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্ভাব্য উৎস খাবার

মিশিগানের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই অঙ্গরাজ্যে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে লেটুস বা সালাদে ব্যবহৃত সবুজ শাকসবজিকে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এটি এখনও নিশ্চিত উৎস নয়।

ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা লেটুসসহ বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি নিয়ে তদন্ত করছেন। তবে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, কিছু ট্যাকো বেল শাখা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে লেটুস, ধনেপাতা, পেঁয়াজ, পিকো দে গ্যালো এবং গুয়াকামোলসহ কয়েকটি উপকরণ মেনু থেকে সরিয়ে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখনো ট্যাকো বেলের সঙ্গে এই অসুস্থতার কোনো সম্পর্ক নিশ্চিত করেননি।

সাইক্লোস্পোরা কী

ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের অধ্যাপক কিথ আর. স্নাইডার বলেন, সাইক্লোস্পোরা হলো একটি অতি ক্ষুদ্র পরজীবী। এই পরজীবীর ডিম্বাণু বহনকারী মানুষের মল দ্বারা দূষিত খাবার বা পানি গ্রহণ করলে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত মে থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে এই সংক্রমণ বাড়ে। তবে মিশিগানে এবার আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বেড়েছে, তা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন ডা. স্নাইডার।

পরজীবী শরীরে প্রবেশের পর দুই দিন থেকে দুই সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় পর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। প্রধান উপসর্গ হলো পানির মতো পাতলা পায়খানা। পাশাপাশি পেট মোচড়ানো, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব ও দুর্বলতাও দেখা দিতে পারে।

আক্রান্ত ব্যক্তি মলের মাধ্যমে সাইক্লোস্পোরার ডিম্বাণু বের করে দেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেটি সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম হয় না; সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহ পর সংক্রমণ ছড়ানোর উপযোগী হয়। এ কারণে সাধারণত মানুষ থেকে মানুষে সরাসরি সংক্রমণ ছড়ানোর ঘটনা কম দেখা যায়।

কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন

যুক্তরাষ্ট্রে অতীতে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণের সঙ্গে রাস্পবেরি, তুলসি পাতা, ধনেপাতা, ফলের মিশ্রণ, স্নো পি, স্ন্যাপ পি, লেটুস এবং সালাদ মিক্সের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্যবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ডোনাল্ড শ্যাফনার বলেন, দেশীয় ও আমদানি করা উভয় ধরনের ফল ও সবজি থেকে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

মিশিগান মেডিসিনের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যাডাম রেসলার বলেন, সাম্প্রতিক সংক্রমণের উৎস নিশ্চিত না হওয়ায় পরিচ্ছন্নতা ও খাদ্য নিরাপত্তার সাধারণ নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে ভালো উপায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—

টয়লেট ব্যবহারের পর এবং খাবার প্রস্তুতের আগে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।
অ্যালকোহলভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার সাইক্লোস্পোরা ধ্বংস করতে পারে না।
ফল ও সবজি খাওয়ার আগে প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
ভিনেগার বা অন্য দ্রবণ দিয়ে ধোয়া সাধারণ পানির চেয়ে বেশি কার্যকর নয়।
খাবার ভালোভাবে রান্না করলে ঝুঁকি কমে। মিশিগানের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৫৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা তার বেশি তাপমাত্রায় গরম করলে সাইক্লোস্পোরা ধ্বংস হয়।

লেটুস ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা প্যাকেটজাত লেটুসের বদলে আস্ত লেটুস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। ব্যবহারের আগে বাইরের দুই থেকে তিন স্তরের পাতা ফেলে দিয়ে ভেতরের পাতাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিতে বলা হয়েছে।

উপসর্গ দেখা দিলে করণীয়

ডা. থমাস মুর বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গ কমে আসে।

এ সময় পর্যাপ্ত তরল পান করা জরুরি। শরীরে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণে পানি, চিনি ও লবণ দিয়ে তৈরি ওরস্যালাইন জাতীয় দ্রবণ গ্রহণ করা যেতে পারে।

তবে উপসর্গ গুরুতর হলে, কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হলে বা আক্রান্ত ব্যক্তি ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর সদস্য হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি বেশি।

পরীক্ষায় সাইক্লোস্পোরা ধরা পড়লে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। এতে উপসর্গের তীব্রতা কমে এবং দ্রুত সুস্থ হতে সহায়তা করে। চিকিৎসা না নিলে দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার মতো সমস্যা কয়েক মাস পর্যন্ত থাকতে পারে। ডায়রিয়া বন্ধের ওষুধ যেমন ইমোডিয়াম বা পেপ্টো-বিসমল ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়